বারণ সত্ত্বেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঘুরলেন অভিযুক্তরা


ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং নীতি পুলিশি চালানোর অভিযোগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চার পড়ুয়ার ক্যাম্পাসে ঢোকার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বৃহস্পতিবারও দু’জন অভিযুক্ত পড়ুয়াকে বহাল তবিয়তে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক ছাত্র এ দিন তাঁর ডিপার্টমেন্টে ভাইভা দিতে গিয়েছিলেন। অধ্যাপক তাঁর ভাইভা নিতে অস্বীকার করেন। ক্যাম্পাসে কেন ঘুরছেন জানতে চাইলে অভিযুক্তরা জানান, কর্তৃপক্ষই নাকি তাঁদের ক্যাম্পাসে থাকতে বলেছেন।

যদিও উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওঁদের মোটেই ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। শুধু ভবিষ্যৎ ভেবে পরীক্ষা বা প্লেসমেন্ট থাকলে অ্যালাও করা হয়েছে। সেই কাজ শেষ হলে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া কোনও ভাবেই ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবেন না। কী কারণ দেখিয়ে ওঁরা ক্যাম্পাসে এসেছিল খোঁজ নিতে বলেছি।’

এই ছাত্রদের বিরুদ্ধে এর আগেও ক্যাম্পাসে মারামারি, রক্তারক্তির ঘটনায় নাম জড়িয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, নেশাচক্র চালানোর জন্য এই অভিযুক্তরা পরিচিত। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ওই চার ছাত্রের মধ্যে নির্দিষ্ট এক জনের বিরুদ্ধে সহপাঠীদের অভিযোগ, এর আগেও অন্তত তিন জন তাঁর হাতে আক্রান্ত হয়েছেন। মাটিতে ফেলে হাতে পরা স্টিলের বালা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আক্রান্তদের মধ্যে এক জন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষাকর্মীর ছেলেও ছিলেন। বিশেষজ্ঞ ও মনোবিদদের বক্তব্য, যে ভাবেই হোক বুঝিয়ে ওই ছাত্রদের মনোবিদ এবং প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সামনে বসানো দরকার। নইলে আরও বিপদ হতে পারে। কর্তৃপক্ষও এই িবষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন।

গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের মাঠে এক ছাত্র ও ছাত্রী একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে হাতে হাত ধরে ঘুরছিলেন। অভিযোগ, সে সময়ে মাঠে বসেই নেশা করার সময়ে অভিযুক্ত চার পড়ুয়া ওই ছাত্র–ছাত্রীর উপরে চড়াও হন এবং তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। উপস্থিত বাকি সহপাঠীরা প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ, প্রতিবাদী ছাত্রীদের প্রতি কু–ইঙ্গিত করেন চার অভিযুক্ত। প্রতিবাদী ছাত্রদের মা–বাবার নাম তুলেও অশালীন মন্তব্য করা হয়। কথা কাটাকাটির মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে চার অভিযুক্তের মধ্যে সবচেয়ে ‘আক্রমণাত্মক’ ছাত্রটি এক প্রতিবাদী ছাত্রের হাত কামড়ে দেন। ওই আক্রান্ত ছাত্রের কথায়, ‘ও ততক্ষণ পর্যন্ত আমার হাত ছাড়েনি যতক্ষণ না রক্ত দেখতে পেয়েছে!’

Post a Comment

Previous Post Next Post