কলকাতার আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ও পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক, ময়না–সহ একাধিক থানা এলাকার নিখোঁজদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুল দেওয়া হলো বুধবার। একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থা ও একটি ডেকোরেটর্স সংস্থার পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে মোট ১০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
ফুলের কাজের জন্য সম্প্রতি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে বহু শ্রমিক আনন্দপুরে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পরে পূর্ব মেদিনীপুরের মোট ২২ জন নিখোঁজ। তাঁদের অধিকাংশই তমলুক, পাঁশকুড়া, ময়না এবং শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বাসিন্দা। অন্য দিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের মালিগেড়িয়া গ্রামের তিন জনেরও খোঁজ নেই। ইতিমধ্যেই ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যতক্ষণ না ডিএনএ রিপোর্ট আসছে, ততক্ষণ মৃত বলে চিহ্নিত করা যাবে না। ফলে রাজ্য সরকার যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, সেটাও দেওয়া সম্ভব নয়। তবে দুই সংস্থার দেওয়া ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিবারের এক জন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পিংলার বাসিন্দা নিখোঁজ বিশ্বজিৎ সাউয়ের বাবা স্বপন সাউ বলেন, ‘চেক পেয়েছি। ছেলেটাকে কি আর কখনও দেখতে পাব? জানি না।’
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের নিখোঁজ শ্রমিক রাজু মান্নার বাবা চিত্তরঞ্জন মান্না বলেন, ‘বৌমার চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতিমধ্যেই জমা নেওয়া হয়েছে।’ তমলুকের নিখোঁজ শ্রমিক গুরুপদ সাউ-এর স্ত্রী স্বপ্না সাউ বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এই সাহায্য আমাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিল।’
পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি বলেন, ‘তিন জনকে দ্রুত সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়ার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
নিখোঁজদের পরিচয় জানতে ইতিমধ্যেই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, থানায় ডেকে তাঁদের নাম, ঠিকানা, পারিবারিক তথ্য সমেত প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপিও সংগ্রহ করেছে প্রশাসন।