‘SIR-এ হস্তক্ষেপ বরদাস্ত নয়, আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ’, মমতাকে পালটা কমিশনের


নিজস্ব প্রতিনিধি : নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বৈঠক নিয়ে মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন। সাফ জানানো হয়েছে, এসআইআরে কারও হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। মমতার অভিযোগ নসাৎ করে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, “কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রকাশ্যে ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। ইআরও (এসডিও/বিডিও)-দের অফিসে হামলা চালানো হচ্ছে।” 

বৈঠক মাঝপথে ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে তাঁরা যা প্রশ্ন করেছেন তার কোনও সদুত্তর মেলেনি। দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কমিশন তার বিবৃতিতে জানাল, তারা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। কমিশন জানায়, মমতার নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল দেখা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত তাদের কিছু প্রশ্ন ছিল, তা তুলে ধরেছে বৈঠকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন।

তবে তার পরেই কমিশন স্পষ্ট জানায়, আইনের শাসন বজায় থাকবে। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তবে কমিশনের হাতে থাকা আইনগত ক্ষমতা ও সংবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিবৃতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়েছে কমিশন। তাদের দাবি, তৃণমূলের বিধায়কেরা কমিশন বিশেষত মুখ্য কমিশনারের বিরুদ্ধে অশালীন এবং হুমকির ভাষা ব্যবহার করেন। কমিশন টেনেছে ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের প্রসঙ্গও। দিন কয়েক আগে মনিরুলের বিরুদ্ধে বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। শুধু তা-ই নয়, প্রকাশ্য সভা থেকে কমিশনকে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ মনিরুলের বিরুদ্ধে। নাম না-করে সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ বিবৃতিতে করেছে কমিশন।

কমিশনের মতে, এসআইআর কাজে নিযুক্ত কর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা বা কাজে বাধা বা হস্তক্ষেপ উচিত নয়। পাশাপাশি কমিশনের অভিযোগ, বিএলও-দের সম্মানিকের টাকা আটকে রেখেছে রাজ্য সরকার। অতীতেও এই অভিযোগ তুলেছে কমিশন। মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবার একই অভিযোগ করল তারা।

Post a Comment

Previous Post Next Post