মালদায় বুলডোজার দিয়ে একাধিক দোকান ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার জেলাজুড়ে ব্যবসায়ী ধর্মঘটের ডাক দিল মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত চার প্রোমোটারকে আগামী দু’দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে শনিবার গোটা জেলায় ব্যবসা বন্ধ রাখা হবে। ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে মালদা শহরে জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার জন্য সরাসরি ইংরেজবাজার পুরসভার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠন।
অভিযোগ, সোমবার গভীর রাত, প্রায় আড়াইটে নাগাদ বুলডোজার চালিয়ে পরপর নয়টি দোকান, একটি দোতলা গুদামঘর ও দুটি অফিসঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দোকানের মালপত্র লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। পুলিশ দুটি জেসিবি মেশিন আটক করেছে এবং জেসিবি চালক জসিম শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত চার প্রোমোটার এখনও অধরা।
বুধবার সকাল থেকেই ইংরেজবাজার পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপল্লি সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ধর্নায় বসেছেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ, একটি বহুতলের ১৩টি দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী অমর শিকদার ও ইন্দ্রজিৎ শেঠের দাবি, শহরের এক তৃণমূল নেতার মদতেই এই প্রোমোটারি রাজ চলছে এবং বিল্ডিংটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের কথায়, রাজনৈতিক মদত ছাড়া এভাবে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালিয়ে দোকান ভাঙা সম্ভব নয়। তাঁরা জানান, সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ভাঙা দোকানের সামনেই ধর্না চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, “অভিযুক্ত চারজনকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে শনিবার জেলা জুড়ে ব্যবসা বন্ধ থাকবে। জেলার সমস্ত বণিক সংগঠন এই বন্ধকে সমর্থন জানিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, অন্যায়ভাবে এলাকায় প্রোমোটারি রাজ কায়েম হয়েছে এবং দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালিয়ে দোকানঘর ভেঙে দিয়েছে।
ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। দক্ষিণ মালদা জেলা বিজেপির সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, শহরজুড়ে একাংশ প্রোমোটারের দাপট চলছে এবং সাধারণ মানুষের জমি দখলের অভিযোগ উঠছে। তাঁর দাবি, একজন চালক গ্রেপ্তার হলেও মূল অভিযুক্তরা এখনও ধরা পড়েনি।
অন্যদিকে, ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন যে এই ঘটনার সময় পুরসভার কোনও কাউন্সিলর বা অফিসার উপস্থিত ছিলেন, তাহলে আমরা পদত্যাগ করব। আর প্রমাণ করতে না পারলে যারা অপবাদ দিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষমা চাইতে হবে।” তাঁর দাবি, পুরসভাকে বদনাম করতে বিরোধীদের তরফে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।