আর জি কর কাণ্ডে ৩ জন সিকিউরিটি ও ২ জন লিফ্ট ম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে

শুক্রবার আবার এক মর্মান্তিক কাণ্ডে আর জি কর হসপিটালে লিফটে আটকে মৃত্যু হয় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির। তা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ বুঝতে পেরেছে লিফ্টম্যান ও সিকিউরিটিরা এর দায় এড়ায়ে পারে না। এবার আর জি করের ঘটনায় স্বাস্থ্য ভবন রিপোর্ট তলব করল। কী ঘটেছিল, কেন লিফটের ভিতর কোন কর্মী ছিল না, ওই ব্যক্তি কোথায় গিয়েছিলেন কার সঙ্গে ছিলেন, লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ কী অবস্থায় ছিল, কতদিন অন্তর রক্ষণাবেক্ষণ করা হত, এই ধরনের একাধিক বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছে স্বাস্থ্য ভবন। আগামী সোমবার সকালের মধ্যেই এই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।পাশাপাশি, অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিবিধি এবং লিফটের ভিতর সিসিটিভির যে ছবি বন্দি হয়েছে, তাও রিপোর্ট সহকারে জমা দিতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনে। ঘটনায় ৩ জন লিফ্টম্যান এবং ২ জন সিকিউরিটি গার্ডকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে পুলিশ। শিশু এবং মহিলা বের হতে পারলেও কেন ওই ব্যক্তি আটকে পড়লেন, কেন তিনি বের হতে পারলেন না, সে ব্যাপারেও যাবতীয় তথ্যাদি অনুসন্ধান করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ভবনের তরফে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ কাছে, এ ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গাফিলতি কোন পর্যায় ছিল এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যে সংস্থাগুলি রয়েছে, সেগুলি কতটা দায়িত্বসম্পূর্ণ, সেগুলো রিপোর্টে উল্লেখ রাখতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায় আরজি কর হাসপাতালে। ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটে দীর্ঘক্ষণ আটকে মৃত্যু হয় ওই এক ব্যক্তির। অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি নাগেরবাজারের বাসিন্দা। তাঁর ছেলের হাত ভেঙে গিয়েছিল। ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। লিফটে নীচে নামছিলেন তিনি। লিফটে তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন পরিবারের সদস্য ছিলেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু তাঁরা বেরোতে পারলেও অরূপ পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post