প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের জেল যাওয়া কিন্তু শুধু সময়ের অপেক্ষা
শতদ্রু দত্তর কথায় অন্তত তাই মনে হচ্ছে। মেসিকে নিয়ে কলকাতায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট করেছে শতদ্রু। অথচ মাঠের ও মাঠের আগের টিকিট বিক্রি করার সব দায়িত্ব জোর করে কেড়ে নিয়েছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যার জন্য শতদ্রুকে জেল খাটতে হয় কয়েক দিন। মেসি কাণ্ডে এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাঁচ ধারায় এফআইআর রুজু করেছেন ইভেন্ট ম্যানেজার শতদ্রু দত্ত। সেদিন মাঠে ঠিক কী কী ঘটেছিল, কীভাবে গোটা বিপর্যয়ের কারণ হিসাবে তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, কীভাবে সেদিন মাঠে কেবল মন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রভাব খেটেছিল, কীভাবে মেসির কাছে গিয়েছিলেন সকলে, যাতে দর্শকরা বঞ্চিত হলেন, সবটা বলতে গিয়ে বিস্ফোরক শতদ্রু। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এই ইভেন্টের আগে থেকে গা-জোয়ারি করে টিকিট নিয়ে কালোবাজারি করেছেন বলে দাবি করেন শতদ্রু। তিনি বলেন, “প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী আর পুলিশের গাফিলতির জন্য আমার ইভেন্টটা ন্যাচাকার হয়। এই ইভেন্টের অনেক আগে থেকে ক্রীড়া মন্ত্রী আমাকে থ্রেট দিতেন। উনি গা-জোয়ারি করে আমার থেকে ২২ হাজারের ওপর টিকিট নিয়েছিলেন। সেই টিকিট বিক্রি করেছেন, সেটা আমার কাছে ১০০ শতাংশ খবর রয়েছে।”
নিজের দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাগ্নীর জন্য অরূপ বিশ্বাস প্রভাব খাটিয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বানিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শতদ্রু। যুবভারতীর মেসি কাণ্ডের জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। এই ঘটনার পর দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই টাকা ফেরতও দেওয়া হয়। শতদ্রু বলেন, “ঠিক তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম। আমার কাছে এমন কিছু ফোন, মেসেজ, ফেসবুকে মেসেজ আসত, যাঁরা টিকিটের দাম ফেরত চেয়ে আমাকে জানাতেন, তাঁদের নাম কিন্তু অনলাইন টিকিট ক্রেতাদের নামের তালিকায় ছিল না। আমার অনলাইন টিকিট বিক্রি হয়েছিল ৩৪ হাজারের কিছু বেশি।” শতদ্রুর কথায়, ” ২২ হাজারের মতো টিকিট নিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সব কম্পিমেন্টারি টিকিট ছিল। যখনই কথা হত, মিটিং হত, টিকিট দিতে হবে, কার্ড দিতে হবে বলে আমাকে হুমকি দিতেন।” শতদ্রু বিশ্বাস করেন, পুলিশ এবার কাজ করবে ও অরূপ বিশ্বাসকে জেলে যেতেই হবে।