কুপন দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ ঘিরে ফের বিতর্কে গেরুয়া শিবির। বর্ধমানে দলীয় চাঁদার নামে গেরুয়া রঙের কুপন ব্যবহার করে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
অভিযোগ, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা উল্লেখ করা কুপন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছচ্ছেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা। সেই কুপনের মাধ্যমে দলীয় তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের কুপন ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছিল। একটি গেরুয়া এবং অন্যটি হলুদ রঙের কুপন ব্যবহারের কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিরোধীদের অভিযোগ, দলীয় চাঁদা সংগ্রহের নামে কুপন ব্যবহার করে স্থানীয় স্তরে প্রভাবশালী মহলের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বালি ঘাট, ইটভাটা-সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।
অন্য দিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে অতীতে দাবি করা হয়েছিল, কুপনের মাধ্যমে দলীয় তহবিলের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করা কোনও অন্যায় নয়। দলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তাদের বক্তব্য ছিল। বালি ঘাট বা ইটভাটা থেকে জোর করে টাকা তোলার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছিল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগে বা পরে দলীয় অর্থ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু কুপনের মাধ্যমে অর্থ চাওয়ার ঘটনায় স্বচ্ছতা এবং অর্থের ব্যবহারের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীর উপর চাপ সৃষ্টি করে টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও প্রশাসনের নজরে আসা প্রয়োজন।
বর্ধমানে নতুন করে এই অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই দলীয় তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া, নাকি এর আড়ালে অন্য কোনও আর্থিক লেনদেন চলছে? অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা স্পষ্ট হবে তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে এলে। আপাতত গেরুয়া কুপন ঘিরে বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।