খবর বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : বাংলার ছেলে, ডিফেন্ডার প্রভাত লাকরাকে আসন্ন মরশুমে ইস্টবেঙ্গল এফসির জার্সি গায়ে মাঠে নামতে দেখা যাবে। মঙ্গলবার ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে সই করার কথা ঘোষণা করা হয়। ২০২৫-২৬ মরশুম পর্যন্ত, অর্থাৎ দু’বছরের চুক্তিতে সই করলেন তিনি।
মাস দুয়েক আগে জামশেদপুর এফসি-র সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর এই ফুলব্যাককে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইস্টবেঙ্গল এফসি। কল্যাণীতে জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ২৬ বছর বয়সি প্রভাত, এর আগে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র হয়ে পাঁচ বছর ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলেছেন। গত বছর জুলাইয়ে তিনি জামশেদপুর এফসি-তে যোগ দেন। কাছাকাছি থাকলেও এতগুলো বছর নিজের রাজ্যের কোনও দল থেকে ডাক পাননি। এ বার সেই সুযোগ পেলেন ফুল ব্যাক।
স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ফুটবল জীবনের এই মোড়ে অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। লাল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে খুশি প্রভাত ক্লাব মিডিয়াকে বলেন, 'ইস্টবেঙ্গল এক প্রতিষ্ঠান। এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই গর্বিত। কোচ কুয়াদ্রাতের সঙ্গে আমার অনেক কথা হয়েছে। ওঁর প্রশিক্ষণে অনুশীলন করার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। দলের খেলোয়াড়দের উনি অনেক আত্মবিশ্বাস জোগান এবং তাদের মধ্যে থেকে সেরাটা বার করে আনেন। ডার্বি খেলার কথা ভেবেও আমি খুবই উত্তেজিত। লাল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নেমে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেব'।
রক্ষণের দু’দিকেই সমান ভাল খেলতে পারেন প্রভাত। গত মরশুমে আইএসএলে ১৫টি ও সুপার কাপে তিনটি ম্যাচে খেলেছিলেন তিনি। জামশেদপুর এফসি-র সুপার কাপ সেমিফাইনালে ওঠার নেপথ্যে তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আইএসএলে এ পর্যন্ত ৫১টি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে তাঁর। গত আইএসএলে মোট ২৭টি ট্যাকল করেন তিনি।
প্রভাতকে নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের হেড কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত বলেন, “বাংলার এই ছেলেটি অভিজ্ঞ ও দ্রুত উন্নতি করছে। যতবার আমাদের দল ওর দলের বিরুদ্ধে খেলেছে, ততবারই ওর লড়াকু মনোভাব ও রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ও যে বড় ক্লাবে খেলে গভীর প্রভাব ফেলতে চায়, তা আমাকে শুরু থেকেই বলছে। ওর ফুটবলজীবনের সেরা বছরগুলো ও আমাদের প্রকল্পেই দিতে ইচ্ছুক। আগামী মরশুম আমাদের কাছে খুব চ্যালেঞ্জিং। আমি নিশ্চিত, এ মরশুমে প্রভাত আমাদের অনেক সাহায্য করবে”।
গত সপ্তাহেই দুই ভারতীয় ফুল ব্যাক নিশু কুমার ও মহম্মদ রকিপকে দলে রাখার সিদ্ধান্ত জানায় ইস্টবেঙ্গল এফসি। রকিপের চুক্তির মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানো হয়েছে। নিশুর চুক্তির মেয়াদ আরও এক মরশুম বেড়েছে। জর্ডনের ডিফেন্ডার হিজাজি মাহেরের চুক্তিও বাড়িয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। এ বার প্রভাতকেও দলে নেওয়ায় তাদের রক্ষণের শক্তি যে বাড়বে, এই নিয়ে সন্দেহ নেই।