কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আরজি করের ধর্ষণ ও খুনের তদন্ত নতুন ভাবে করছে সিবিআই। বিশেষ তদন্তকারী দল (‘সিট’) গড়েছে ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ‘সিট’ এ দিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পৌঁছয় পানিহাটি শ্মশানে। সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা কথা বলেন শ্মশানের ইন–চার্জ ভোলানাথ পাত্রের সঙ্গে। পরে এ ব্যাপারে ভোলানাথ পাত্র বলেন, ‘যে সব দেহের ময়না–তদন্ত হয়, সেই দেহগুলো সাধারণত সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে চলে আসে। কিন্তু সে দিন (২০২৪–এর ৯ অগস্ট) অভয়ার দেহ এসেছিল রাত ১১টায়। অভয়ার দেহের সঙ্গে তাঁর মা–বাবাও ছিলেন। তাঁদের এক জনও আপত্তি করলে অভয়ার দেহ আগে দাহ করা হতো না। তাঁরা চুপ ছিলেন। ফলে, অভয়ার মৃতদেহ আগে (অভয়ার মৃতদেহের আগে শ্মশানে পৌঁছনো আরও দু’টি দেহ দাহ করার আগে) দাহ করা হয়েছিল বলে আমি সিবিআই কর্তাদের জানিয়েছি।’
যদিও অভয়ার বাবা শেখররঞ্জন দেবনাথ এ দিন বলেন, ‘পানিহাটি শ্মশানের ইন–চার্জ কার আন্ডারে চাকরি করেন? নিজের চাকরি বাঁচাতে তিনি এখন এ সব বলেছেন। ঘটনার দিনের ভিডিয়ো কিন্তু আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা মেয়ের দেহ নিয়ে শ্মশানে গিয়েছিলাম ঠিকই। তবে ওখানে আমাদের যাওয়ার আগেই সব কিছুর পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছিল। একটি দেহ পোড়ানোর সময়ে প্রচুর পুলিশ ছিল। কেন এত পুলিশ থাকবে? দুটো মৃতদেহ (আগে আসা) রেখে তড়িঘড়ি করেই আমাদের মেয়ের দেহ পোড়ানো হয়েছিল।’
পানিহাটি শ্মশানের ইন–চার্জ বলছেন, ‘ওই দিন সকাল থেকেই শ্মশানে পুলিশ এবং ভিআইপি–দের আনাগোনা ছিল। তার জন্য শ্মশান সংলগ্ন রাস্তায় ভিড় ছিল গাড়ির। প্রথমে ভেবেছিলাম, কোনও ভিআইপি–র পরিবারের কারও মৃতদেহ শ্মশানে আসবে। পরে জানতে পারি, অভয়ার মৃতদেহ আসছে।’
সিবিআই সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত যাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে, তাঁদের বয়ানের সঙ্গে শ্মশানের ইন–চার্জ ও শ্মশানে সে দিন ডিউটিতে থাকা অন্যদের বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে। সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা এ দিন পানিহাটি শ্মশানের ২০২৪–এর ৯ অগস্ট তারিখের, অর্থাৎ যে দিন অভয়ার মৃতদেহ দাহ করা হয়, সে দিনের রেজিস্টার খাতা প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে খুঁটিয়ে দেখেন। ওই রেজিস্টার খাতার ছবিও তুলে নেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।