ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের তিন কিলোমিটারের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি বা কাঠের উনুন জ্বালানো যাবে না বলে নির্দেশ রয়েছে হাইকোর্টের। কিন্তু গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার পথে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ময়দানের অস্থায়ী শিবিরে দেদার আগুন জ্বালিয়ে রান্না করছেন। এমনকী হাত সেঁকার জন্য আগুনও জ্বালাচ্ছেন।
এমনই গুচ্ছ ছবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে হলফনামা পেশ করেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। এ নিয়ে শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানি চেয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ। সেদিন কলকাতা পুরসভাকে কোর্টকে জানাতে হবে গঙ্গাসাগরের পুণ্যার্থীদের আগুন জ্বালানোর কী বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে গত কয়েক বছরে একাধিকবার প্রকাশ্যে উনুন না জ্বালানো নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা তো দূরের কথা, কোথাও কয়লা বা কাঠে, কোথাও কেরোসিনের স্টোভ জ্বেলে খোলা আকাশের নিচেই রান্না চলে। শেষে হাইকোর্টের হুঁশিয়ারিতে কলকাতা পুরসভা হলফনামায় স্বীকার করে নেয়, ঐতিহাসিক সৌধের আশেপাশে যে সব হোটেল এবং খাবারের দোকান রয়েছে, তার অধিকাংশই কয়লা বা কাঠের উনুনে রান্না করে।
গত সোমবার হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল। তার আগে গঙ্গাসাগরের পুণ্যার্থীদের অস্থায়ী শিবির নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে। দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, অতি দ্রুত পুরসভাকে সমীক্ষা করে দেখতে হবে, ময়দানের অস্থায়ী শিবিরগুলিতে কত পুণ্যার্থী থাকেন। তাঁদের খাবার তৈরির জন্য কতগুলি উনুন জ্বালানো হয়। কোর্টের নির্দেশ, পুরসভাকে রিপোর্টে জানাতে হবে রান্নার জন্য কোন বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আরও অভিযোগ, অস্থায়ী শিবিরের শৌচাগারগুলির নিকাশিও তেমন পোক্ত নয়। সে জন্য পুরসভাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরিবেশকে দূষিত না করে এই বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর শৌচালয়ের বর্জ্য কী ভাবে স্থায়ী নিকাশি নালার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তা–ও রিপোর্টে শুক্রবারের মধ্যে কোর্টকে জানাতে হবে। কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছে, একবার সমীক্ষা করে পুরসভার বসে থাকলে চলবে না। কারণ, একবার নজরদারি চালিয়ে সব কিছু রোখা যায় না। ফলে প্রতি তিন মাস অন্তর নজরদারি চালিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে ভিক্টোরিয়ার তিন কিলোমিটারের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি যেন না জ্বলে।