পর্যটকদের জন্য বিরাট দুঃসংবাদ! বন্ধ হল দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী গ্লেনারিজ রেস্তোরাঁর পানশালা


সামনেই বড়দিন ও নিউ ইয়ার! তার আগেই বিরাট পর্যটকদের জন্য বিরাট দুঃসংবাদ। বন্ধ হয়ে গেল দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী গ্লেনারিজ রেস্তোরাঁর পানশালা। তিন মাসের জন্য পানশালা বন্ধের নির্দেশিকা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বিধি, ১৯৯৮-এর ২৩৯ নম্বর ধারার আওতায় প্রতিষ্ঠানের ভিতরে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে । যদিও এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছেন গ্লেনারিজের কর্ণধার তথা ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের আহ্বায়ক অজয় এডওয়ার্ড।  

পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ এই ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ। ব্রিটিশ আমল থেকে দাঁড়িয়ে থাকা এই রেস্তোরাঁ-বেকারি-পাব পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে সমান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন সন্ধ্যায় লাইভ মিউজিক ও আড্ডার আসর বসে গ্লেনারিজে। ঠিক এমন সময় হঠাৎ করে গ্লেনারিজে বার বন্ধের নির্দেশে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মন খারাপ। আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, গ্লেনারিজ আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়াই লাইভ মিউজিকের আয়োজন করছিল। সেই কারণেই তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ্লেনারিজের কর্ণধার অজয় এডওয়ার্ডস, যিনি ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম মুখ। সম্প্রতি তাঁর সমর্থনে তৈরি হওয়া দার্জিলিংয়ের একটি সেতুর উদ্বোধন করে সেটির নাম রাখা হয় “গোর্খাল্যান্ড”। এর ঠিক পরদিন, সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা গ্লেনারিজে হানা দেন। কর্মকর্তারা জানান, অনিয়মের বিষয়গুলি প্রথম নভেম্বর মাসেই চিহ্নিত হয়েছিল। ভরা মরশুমে এভাবে জনপ্রিয় নাইট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে মন খারাপ পর্যটকদের ।তিন মাসের বন্ধের নির্দেশের পর অজয় এডওয়ার্ডস এবং তাঁর পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনওভাবেই এর সঙ্গে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই।

গ্লেনারিজের গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে একটি রেস্তো-বার, যেখানে লাইভ ব্যান্ড পারফর্ম করে। প্রথম তলায় বেকারি এবং টপ ফ্লোরে রয়েছে রেস্তোরাঁ। গ্লেনারিজের ম্যানেজার অশোক তামাং জানান, “গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সব স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। হঠাৎ আবগারি দফতরের আধিকারিকেরা এসে লাইসেন্স–ডকুমেন্ট পরীক্ষা করেন। সব নথিই বৈধ এবং কোনও বকেয়া নেই। প্রথমে ভেবেছিলাম রুটিন চেক, কিন্তু পরে তাঁরা বার ও রেস্তোরাঁ থেকে মদের বোতল বাজেয়াপ্ত করা শুরু করেন।” তামাং আরও জানান, লাইভ ব্যান্ড পারফরম্যান্সের লাইসেন্স বাতিলই সমস্যার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা। “পুলিশ আগেই লাইভ মিউজিকের অনুমতি দিয়েছিল। আমরা নতুন করে অনুমতির জন্য আবেদন করেছি। তবে সেই অনুমতি আবগারি দফতরে না পৌঁছানোয় সমস্যাটি তৈরি হয়েছে,” বলেন তিনি।

Post a Comment

Previous Post Next Post