এক মাসের মধ্যে ফের কলকাতায় ভূমিকম্প — দুপুর ১টা ২২ মিনিটে কেঁপে উঠল শহর
ফেব্রুয়ারি মাসেই ফের ভূমিকম্পের কম্পনে কেঁপে উঠল কলকাতা। আজ দুপুর প্রায় ১টা ২২ মিনিট নাগাদ হঠাৎই শহরের বিভিন্ন অংশে অনুভূত হয় শক্তিশালী কম্পন। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেল অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৫। দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা, সল্টলেক, হাওড়া ও শহরতলির বহু এলাকায় মানুষ স্পষ্টভাবে কম্পন অনুভব করেন। বহুতল আবাসন ও অফিস ভবনগুলিতে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হওয়ায় অনেকেই দ্রুত নিচে নেমে আসেন।
যদিও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে এক মাসের মধ্যে ফের ভূমিকম্প হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
কেন বারবার কম্পন অনুভূত হচ্ছে কলকাতায়?
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, কলকাতা সরাসরি বড় ফল্ট লাইনের উপর না থাকলেও এটি ভূমিকম্প সংবেদনশীল অঞ্চলের প্রভাব এলাকায় পড়ে।
১. টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ
ভারতীয় প্লেট ক্রমাগত উত্তর দিকে সরে গিয়ে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। এর ফলে হিমালয় অঞ্চলে শক্তি জমা হয়ে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
২. হিমালয় অঞ্চলের প্রভাব
হিমালয় পর্বতমালা এলাকায় উৎপন্ন ভূমিকম্পের কম্পন অনেক সময় পূর্ব ভারতের সমতল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং কলকাতাতেও অনুভূত হয়।
৩. নরম পলিমাটি ও নদী অববাহিকা
গঙ্গা অববাহিকার নরম মাটির কারণে কম্পনের তরঙ্গ দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হতে পারে, ফলে দূরের ভূমিকম্পও শহরে জোরালো মনে হয়।
সতর্ক থাকার পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার না করা
শক্ত টেবিল বা দেওয়ালের পাশে আশ্রয় নেওয়া
বহুতল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা
পরপর ভূমিকম্পের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—কলকাতা কি ধীরে ধীরে বেশি সিসমিক সক্রিয় অঞ্চলের প্রভাবের মধ্যে পড়ছে? যদিও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে প্রস্তুত থাকাই এখন সবচেয়ে বড় বার্তা।