টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আলিপুরদুয়ার পুরসভার 18 নম্বর ওয়ার্ডের প্রমোদ নগর এলাকা । ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক ব্যক্তি । পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয় ৷ পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ ।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে । স্থানীয় বাসিন্দা কাজল দত্তের সঙ্গে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বচসায় জড়িয়ে পড়েন মিঠুন মিয়াঁ । অভিযোগ, কিছুক্ষণ পর মিঠুন মিয়াঁ দলবল নিয়ে এসে কাজল দত্তের উপর চড়াও হন । মারধরে গুরুতর জখম হন কাজল দত্ত । প্রথমে তাঁকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয় ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আলিপুরদুয়ার থানা থেকে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ৷ সেই সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের উদ্দেশে ঢিল ছোঁড়ে । পরে আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যাধওয়ার অবিনাশ ভীমরাও-এর নেতৃত্বে আরও পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । এই ঘটনায় অভিযুক্ত মিঠুন মিয়াঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ পিকেটিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সারারাত টহল চালানো হয়েছে ।
আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যাধওয়ার অবিনাশ ভীমরাও বলেন, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি এসডিপিও এবং পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই । বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে । সবাইকে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । সারারাত পুলিশ পেট্রোলিং চলবে ।"
আহত কাজল দত্তের মা লক্ষ্মী দত্ত অভিযোগ করে বলেন, "প্রায় দুই-তিনশো লোক মিলে আমার ছেলেকে মারধর করেছে । মাথায় বোল্ডার, চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে । বাড়ির সামনের মোড়ে ফেলে রেখে গিয়েছে । ছেলেকে আলিপুরদুয়ার হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয়েছে ।"
অন্যদিকে, আহতের বোন দীপা দত্ত বলেন, "আমরা ঘটনার সঠিক বিচার চাই । যারা আমার দাদাকে চাকু ও বোল্ডার দিয়ে মেরেছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই ।" ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে ৷ তবে পুলিশের কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক ।