সরকারি হাসপাতালের শয্যায় গড়াগড়ি খাচ্ছে কুকুর! নির্মল-কাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিল হুগলির গৌরহাটি ইএসআই, বিতর্ক


হাসপাতালের কক্ষ দেখে মনে হচ্ছে সেটি প্রসূতি বিভাগ। কারণ, হাসপাতালের বেডগুলিতে শুয়ে রয়েছেন শুধু রোগিণীরা। সেই শয্যারই একটি দখল নিয়েছে পথকুকুর। কখনও সে বসে। কখনও গড়াগড়ি খাচ্ছে। রোগিণীরা চেয়ে রয়েছেন। তবে নার্সরা বিচলিত নন। তাঁরা নিজেদের মতো কাজ করে যাচ্ছেন। এই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল হুগলিতে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি খবর বাংলা সংবাদ)। তবে এই দৃশ্য দেখে বিরোধীরা রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি টানল ২০১৫ সালে এসএসকেএমে ‘বিতর্কিত’ কুকুরের ডায়ালিসিসের ঘটনা।

বুধবার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। দাবি করা হচ্ছে, সেটি গৌরহাটি ইএসআই হাসপাতালের ভিতরকার ভিডিয়ো। তাতে দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের শয্যায় বসে এক পথকুকুর। মুহূর্তের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। হাসপাতালের যে বেডে রোগী থাকার কথা। সেই বেডে শুয়ে আছে সারমেয়। এমনই ছবি উঠে এল হুগলির গৌরহাটি ইএসআই হাসপাতালে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, চটকলের শ্রমিকেরা চিকিৎসা করাতে গেলে বেশির ভাগ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে দেন, ‘বেড নেই।’ তাদের কটাক্ষ, ‘‘থাকবে কী ভাবে, বেড তো দখল করে রাখে কুকুর।’’ বুধবার দলীয় কর্মসূচিতে হুগলিতে ছিলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। হাসপাতালের বেডে কুকুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটাই স্বাভাবিক দৃশ্য। মানুষের বিছানায় কুকুর থাকবে। কয়েক দিন আগে দেখা গিয়েছে এক শিশুর মাথা নিয়ে যাচ্ছে কুকুর। সরকারি হাসপাতালে তাদের অবাধ যাতায়াত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু এ রাজ্য আগেও আরও অনেক ছবি দেখেছে। কুকুরের ডায়ালিসিসি যখন মানুষের হাসপাতালে হয়, এ আর নতুন কী?’’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুনে এসএসকেএমের নেফ্রোলজি বিভাগে ‘প্রভাবশালী’ কুকুরের ডায়ালিসিসের অনুমতি-বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল তৃণমূলের চিকিৎসক-নেতা তথা তৎকালীন মন্ত্রী নির্মল মাজির। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতির এক আত্মীয়ের কুকুরের জন্য হাসপাতালের ডায়ালিসিস ওয়ার্ডে সব ব্যবস্থা পাকা হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। হাসপাতালের তৎকালীন অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র অনুমতি দিয়েছিলেন। তখনকার বিভাগীয় প্রধান রাজেন্দ্র পাণ্ডে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নির্দেশ দেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ডায়ালিসিস ওয়ার্ডের ভিজিটিং চিকিৎসকের নোটে ‘অঘটন’ আটকানো গিয়েছিল।

গত বছরের এপ্রিলে নদিয়ার চাপড়া ব্লকের ব্যস্ততম একটি হাসপাতালের বেডে কুকুর শুয়ে থাকা নিয়ে বিতর্ক হয়। গৌরহাটি ইএসআই হাসপাতালের ঘটনার প্রেক্ষিতে চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, ‘‘এটা আমার জানা নেই। খবর নেব। এমন ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব।’’

গৌরহাটি ইএসআই হাসপাতালের সুপার সোমনাথ পাণ্ডে জানান, ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটি তিনিও দেখেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘একটি ভিডিয়ো দেখলাম, যেখানে একটি কুকুর বেডে শুয়ে রয়েছে। হাসপাতালে কুকুর-বিড়াল শুয়ে থাকা অনভিপ্রেত। আর যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, ব্যবস্থা করা হবে। কোনও আধিকারিকের অসাবধানতা বা গাফিলতি ধরা পড়লে তাঁকে শো কজ় করা হবে।’’ পাশাপাশিই হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন, তাঁদের ২১৬ শয্যার হাসপাতালের বিশাল চত্বরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষীর অভাব। আরও রক্ষী যাতে বাড়ানো যায়, সেটা দেখবেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post