নদিয়ার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া গ্রামের বিয়েবাড়ি এবং পর পর দু’ দিন একসঙ্গে নাইট ডিউটি। একেবারে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুই নার্সের নিপা সংক্রমণের উৎস এমনটা বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় ‘ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম’ (এনজেওআরটি)। নিশ্চিত ভাবে না বললেও, এই দু’টি বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে তাদের ১১ পাতার রিপোর্টে। বুধবারও ওই দুই নার্স তাঁদের কর্মস্থল, বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে গভীর কোমায় ভেন্টিলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দু’জনের অবস্থাই অতি সঙ্কটজনক।
এ দিকে কাটোয়ার সিস্টার-নার্সের সংস্পর্শে আসা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এক হাউসস্টাফ ও এক নার্সের শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায়, তাঁদের বুধবার আনা হয়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। নার্সকে বর্ধমান থেকে মঙ্গলবার গভীর রাতে এবং হাউসস্টাফকে এ দিন সকালে আইডি-তে আনা হয়। বছর চব্বিশের ওই হাউসস্টাফ তাঁর বাড়িতে কোয়ারান্টিনে ছিলেন। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের পদ্মের হাট এলাকায়। দু’ জনেরই সামান্য সর্দি-কাশির উপসর্গ রয়েছে। তবে যেহেতু নিপার সংক্রমণ এই রকম উপসর্গ দিয়েই শুরু হয়, তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দু’ জনকেই আইডি-তে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
বর্ধমান মেডিক্যালের ওই দু’জনের পাশাপাশি আরও একজনকে আইডি-তে স্থানান্তর করা হয়েছে বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে। তিনি ওই হাসপাতালে অ্যাকিউট এনকেফালোপ্যাথি সিনড্রোম নিয়ে ভর্তি ছিলেন। নিপা হয়ে থাকতে পারে, এই আশঙ্কায় ওই তরুণীকেও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আইডি-তে পাঠানো হয়েছে আইসোলেশনে। তাঁদের প্রত্যেকের নমুনা এ দিন পাঠানো হয় কল্যাণী এইমসের ল্যাবে। দুই নার্সের নিপা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাঁদের সংস্পর্শে আসা মোট ৪৫ জনের নমুনা কল্যাণীতে পাঠানো হয়েছে এ যাবৎ। তার মধ্যে পাঁচ জনের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই নেগেটিভ এসেছে।
নিপার উৎস–ইঙ্গিত কেন্দ্রীয় রিপোর্টে
তবে আগাগোড়া স্বাস্থ্যকর্তাদের যে বিষয়টি ভাবিয়ে আসছিল, দুই নার্সের নিপা সংক্রমণের সেই উৎসের দিকে কিছুটা আলোকপাত করেছে কেন্দ্রীয় এনজেওআরটি-র রিপোর্ট। তাতে ওই দু’ জনের সংক্রমণের কবলে পড়ার সম্ভাব্য কারণ তাঁদের গতিবিধি-সহ বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, গত ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সিস্টার নার্স নদিয়া জেলার ঘুগরাগাছি গ্রামে যান। সেটি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রামীণ এলাকা। সেখানে তিনি একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। ওই অঞ্চলে খেজুর-রস ও খেজুরের গুড় ব্যাপক ভাবে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।