ঢাকায় নিহত ছাত্রনেতা ওসমান হাদির দাদা ব্রিটেনে সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব! নিয়োগ করল ইউনূস সরকার


বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির দাদাকে ব্রিটেনের বার্মিংহ্যাম শহরে দেশের সহকারী হাই কমিশনে নিয়োগ করল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে। ওসমানের দাদা ওমর হাদি বার্মিংহ্যামে বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব হচ্ছেন।

হাদির দাদাকে হাই কমিশনে নিয়োগ করার বিজ্ঞপ্তি গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বার্মিংহ্যামের সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব হিসাবে ওমর নিযুক্ত হতে পারবেন। তবে তাঁকে কিছু শর্ত মানতে হবে। এই পদে যোগ দিলে তিনি অন্য কোনও পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। সেই শর্তে আপাতত তিন বছরের মেয়াদে পদ পাচ্ছেন ওমর। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। যে দিন ওমর কাজে যোগ দেবেন, সে দিন থেকে চুক্তির তিন বছরের মেয়াদ কার্যকর করা হবে।

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হাদি। সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছ’দিন পর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মাথায় গুলি লেগেছিল। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ঢাকায় পৌঁছোতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। রাজধানী তো বটেই, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধরা। হাদির খুনিদের শাস্তি চেয়ে পথে নামেন বহু মানুষ। সে সময় সংগঠিত গণরোষের কোপ পড়েছিল একাধিক সরকারি ও সাংস্কৃতিক ভবন এবং সংবাদপত্রের দফতরে।

হাদির হত্যাকাণ্ডে অনেককে গ্রেফতার করেছিল বাংলাদেশের পুলিশ। আপাতত কারাগারে রয়েছেন মোট ১১ জন। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহকারী আলমগির হোসেন এখনও পলাতক। বাংলাদেশের তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। তবে এখনও এই দাবির পক্ষে প্রমাণ মেলেনি। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা, মা, স্ত্রী এবং বান্ধবীও। হাদির হত্যাকারীদের শাস্তি চেয়ে বাংলাদেশে আন্দোলন তীব্রতর হয়েছিল গত মাসেই। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইনকিলাব মঞ্চ। এ বার হাদির দাদাকে ব্রিটেনের সহকারী হাই কমিশনে নিয়োগ করা হল।

Post a Comment

Previous Post Next Post