রণথম্ভোর নিয়ে বড় ঘোষণা, সাফারির সময়ে ব্যবহার করা যাবে না মোবাইল ফোন, নয়া নির্দেশিকা কর্তৃপক্ষের

রাজস্থানের বন দপ্তর এবং পর্যটন দপ্তরের এক যৌথ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই রণথম্ভোরে সাফারি চলাকালীন মোবাইলের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। জানানো হয়েছে, সাফারি শুরুর সময়ে গাইডরা পর্যটকদের মোবাইল ফোনগুলি সংগ্রহ করবেন। এর পরে নির্দিষ্ট বক্সে সেই ফোন রাখা থাকবে। সাফারি শেষ হলে ফোনগুলি পর্যটকদের ফেরত দেওয়া হবে।

জঙ্গল সাফারি করতে গিয়ে গাড়ির সামনে হঠাৎ চলে এল বাঘ! সেই রাজকীয় চালচলন, উজ্জ্বল হলুদ গায়ের রং, বিশাল মুখের হাঁ — এমন মুহূর্ত বন্দি করে রাখতে চান প্রায় সব পর্যটকই। কিন্তু, এ বার সেই ইচ্ছেতেই ছেদ পড়তে চলেছে। সাফারি চলাকালীন পর্যটকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে চলেছেন রণথম্ভোর কর্তৃপক্ষ। জঙ্গলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, জঙ্গলের প্রাণীদের অযাচিতভাবে বিরক্ত না করা এবং প্রাণীদের ছবি তুলতে গিয়ে কিংবা ভিডিয়ো করতে গিয়ে যাতে পর্যটকরা বিপদে না পড়েন তা সুনিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

এই সিদ্ধান্তের কারণ কী?

কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটকরা প্রায়ই সাফারিতে এসে বন্য জন্তুদের সঙ্গে ছবি তোলেন, রিলস বানান। এর ফলে জঙ্গলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হয়। পাশাপাশি, জঙ্গলের প্রাণীদের স্বাভাবিক আচার-আচরণ বিঘ্নিত হয়। রনথম্ভোর টাইগার রিজার্ভ হিসেবে পৃথিবীতে বিখ্যাত। পর্যটকদের এমন আচরণের কারণে বাঘের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। সেই কারণেই মোবাইল ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগেও সাফারির গাইড এবং গাড়ি চালকদের মোবাইল ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন জঙ্গল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, গাইড, গাড়ি চালকদের প্রতিবাদের মুখে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সরকার। যদিও, এ বারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা নিয়ে তারপরেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে জঙ্গলের প্রাণীদের রক্ষা করা সম্ভব হবে, পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত করা যাবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।

Post a Comment

Previous Post Next Post