ধর্ষণের মিথ্যে মামলা, তরুণীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ


ধর্ষণের অভিযোগ করা ‘নির্যাতিতা’র বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ দিল আদালত। বেকসুর মুক্তি দেওয়া হলো অভিযুক্তকে। এই রায় হলো কাঁথি আদালতে। ২০২৩–এ বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নির্যাতিতা ভাড়াটে মহিলা। সেই ধর্ষণের মামলায় এই রায় দিয়েছেন কাঁথি আদালতের অতিরিক্ত দায়রা ও জেলা আদালতের বিচারক অজয়েন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

তিনি মিথ্যা মামলা করার জন্য অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯৫ ও ২১১ ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন । পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থানা এলাকার ঘটনা। বছর তিরিশের অভিযোগকারিণীর স্বামী রামনগরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। ওই দম্পতি রামনগর থানা এলাকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০২৩–এর ১৫ অগস্ট রামনগর থানায় বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী।

অভিযোগ ছিল, তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে বাড়ির মালিক জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। লাগাতার কয়েক দিন ধরে ধর্ষণ করা হয় তাঁকে। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় ভয়ে তিনি সেই কথা কাউকে বলতে পারেননি। পরে স্বামীকে ওই তরুণী সব কিছু জানান। এবং দু’জনে গিয়ে রামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি আদালতে গোপন জবানবন্দিতেও ধর্ষণের কথা জানান ওই তরুণী। মেডিক্যাল পরীক্ষা করে দ্রুত চার্জশিটও জমা দেয় রামনগর থানার পুলিশ। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশ তাঁর জেল হেফাজত হয়। তবে কিছু দিনের মধ্যে আদালত অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করে । মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় কাঁথি আদালতে। মামলায় পাঁচ জন সাক্ষী নেওয়া হয়। নির্যাতিতার সাক্ষ্যও নেন বিচারক।

Post a Comment

Previous Post Next Post