যাত্রীবাহী ট্রেনের উপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল আস্ত ক্রেন। দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮০ জন। পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ব্যাংককের উত্তরে নাখন রাচাসিমা প্রদেশের বান থানন খোট এলাকায় এই দূর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৎপর হয় প্রশাসন। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হাই-স্পিড রেল প্রকল্পের কাজ চলাকালীন একটি বিশালাকার ক্রেন হঠাৎ ভেঙে পড়ে চলন্ত ট্রেনের একটি কামরার উপর আছড়ে পড়ে। সংঘর্ষের ফলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আগুনও ধরে যায়। পরে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং উদ্ধারকাজ শুরু হয়। নাখন রাচাসিমা প্রদেশের পুলিশ আধিকারিক থাচাপোন চিন্নাওয়ং সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানান, “২২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।” আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, দুর্ঘটনার ফলে ট্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বেঁকে যাওয়া ধাতব অংশ কেটে ট্রেনের ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনছেন। দমকল, চিকিৎসক দল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নেয়। থাই সরকারের জনসংযোগ দফতর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে দুর্ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে। জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই একাধিক উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয় এবং দুর্ঘটনার সময় বহু যাত্রী ট্রেনের কামরার ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, কয়েকজন আহত যাত্রীর অবস্থা গুরুতর।
যে ক্রেনটি ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটায়, সেটি প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হাই-স্পিড রেল প্রকল্পের অংশ। চিনের সহায়তায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে লাওস হয়ে ব্যাংকককে চিনের কুনমিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে থাইল্যান্ডে শিল্প ও নির্মাণক্ষেত্রে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা বিধি মানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বুধবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসন ক্রেন ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।