সুখবর? নাকি আসলে জোড়া সুখবর? তিন বছর পার করে মাঘের শীতে ফের বাঘের দেখা মিলল উত্তরবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজ়ার্ভে। বৃহস্পতিবার রাতে টাইগার রিজ়ার্ভের গভীরে বসানো একটি ক্যামেরা ট্র্যাপে পূর্ণবয়স্ক বাঘটির ছবি উঠেছে। এটা যদি বাংলার বন্যপ্রাণ–প্রেমীদের জন্য সুখবর হয়, তা হলে আরও একটা শোনা বাকি।
সাম্প্রতিক অতীতে প্রথমবার বাঘের পায়ের স্পষ্ট ছাপ মিলেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানেও! একশৃঙ্গ গন্ডারের চারণভূমি জলদাপাড়ায় কখন ডোরাকাটার পায়ের ছাপ পড়ল, আপাতত সে দিকে নজর রয়েছে। স্পষ্ট নয়, বক্সায় যে বাঘের ছবি উঠেছে, সে–ই জলদাপাড়ায় হেঁটে বেরিয়েছে কি না। তবে এর আগেও বক্সায় যখন বাঘ বেরিয়েছে, তার আশপাশের সময়ে জলদাপাড়ায় বাঘের উপস্থিতি টের পেয়েছেন বনাধিকারিকরা।
বক্সায় আপাতত বাঘ শুমারির কাজে হাজারখানেক ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো রয়েছে। তারই একটিতে গত ১৫ জানুয়ারি, রাত ৮টা ১৯–এ বাঘের ছবি ওঠে। ক্যামেরার একেবারে সামনে চলে আসা বাঘটি পুরুষ এবং পূর্ণবয়স্ক — প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমনটাই মনে করছেন বাংলার শীর্ষ বনাধিকারিকরা। এর আগে ২০২১–এর ডিসেম্বর এবং ২০২৩–এর ডিসেম্বরে বক্সায় বসানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় বাঘের ছবি উঠেছিল। তবে এ বারের মতো এত কাছ থেকে ছবি আগে আসেনি।
প্রতিবারই আশা করা হয়েছে, এই বাঘ হয়তো বক্সায় ডেরা বাঁধবে। প্রতিবারই পরবর্তীতে দেখা গিয়েছে, বক্সার জঙ্গলকে বাঘ ব্যবহার করেছে 'মাইগ্রেশন রুট' হিসেবে। এখনও পর্যন্ত 'রেসিডেন্ট' বাঘ পায়নি বক্সা। যদিও রাজ্যের হেড অফ ফরেস্ট দেবল রায়ের কথায়, 'পাঁচ বছরে তিন বার বক্সার জঙ্গলে বাঘের ছবি ওঠায় এটা স্পষ্ট, জঙ্গল সংরক্ষণ ও তার মানোন্নয়নের কাজ ঠিক পথেই এগোচ্ছে। বাঘ তো সরাসরি বক্সার জঙ্গলে ঢোকেনি। উত্তরবঙ্গের নানা এলাকা দিয়েই তাকে যেতে হয়েছে। সেই রুট নিরুপদ্রব না-হলে বার বার তার দেখা মিলত না।'