অতিরিক্ত ১০ নম্বর বাতিলের দাবিতে অনড়! ফের পথে নেমে আন্দোলেন এসএসসি-র নতুন চাকরিপ্রার্থীরা!


ফের পথে স্কুল সার্ভিস কমিশন-এর (এসএসসি) নতুন চাকরিপ্রার্থীররা। কর্মরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার বিরোধিতা করে দাবিপত্র পেশ করতে চান তাঁরা। তারই সঙ্গে ‘এক্সপায়ারি প্যানেলে’ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।

সোমবার, সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে সকাল থেকেই বিধাননগরের করুণাময়ী এলাকায় জমায়েত শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু সময় নষ্ট না করে, তখনই তাঁদের আটক করে পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের দাবি,‌ ইন্টারভিউয়ের আগে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের অতিরিক্ত ১০ নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ফেল নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আর কোনও সুযোগ থাকছে না। এই অতিরিক্ত ১০ নম্বর বাতিলের দাবি তাঁরা জানাচ্ছেন একেবারে প্রথম থেকেই। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল থেকে প্রায় যে ৭০০০ জন চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের চাকরি বাতিলের দাবিও তুলছেন তাঁরা।

যদিও এ প্রসঙ্গে কমিশনের দাবি করেছে, একাদশ-দ্বাদশ বা নবম-দশম— উভয় ক্ষেত্রেই ইন্টারভিউয়ে যাঁরা ডাক পেয়েছেন তাঁদের ৫০ শতাংশ নতুন চাকরিপ্রার্থী। এসএসসি-র হিসাব বলছে, নবম-দশম শ্রেণির জন্য ইন্টারভিউয়ে ডাকা হবে প্রায় ৪০ হাজার প্রার্থীকে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার নতুন চাকরিপ্রার্থী। আবার একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য যেখানে ২০ হাজারের কিছু বেশি প্রার্থীকে ডাকা হয়েছে ইন্টারভিউয়ের জন্য, সেখানে নতুন প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

এ দিন আন্দোলনকারীরা করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাঁদের আটক করে। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনকারীর অন্যতম নেতা শিশির দাস বলেন, “সকাল থেকে আমার বাড়িতে পুলিশ। যাতে আমরা সরকারের কাছে দাবিপত্র পেশ না করতে পারি। তার পরও আমরা এখানে এসেছি আমাদের বক্তব্য জানাতে। এসএসসি ও সরকার আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা করেছে।”

নতুন চাকরিপ্রার্থী সুলতান মেহবুদ বলেন, “আমরা হাজার হাজার টাকা খরচা করে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেছি বেসরকারি কলেজ থেকে। কী লাভ হল? সরকার আমাদের বঞ্চনা করল।” তাঁর দাবি, তাঁরা কোনও জঙ্গি আন্দোলন নয়, শান্তিপূর্ণ ভাবে স্মারকলিপি জমা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের আটক করে।

দু’টি মূল দাবি ছাড়াও সকল চাকরিপ্রার্থীর ওএমআর প্রকাশ, নবম-দশমের জন্য ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি সংক্রান্ত বিষয়েও দাবি তুলেছেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post