বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা ফের উদ্বেগ বাড়াল। সাম্প্রতিক এক নৃশংস আক্রমণে গুরুতর আহত হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমত তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যু নিয়ে দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে।
ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে নিজের গ্রামে একটি ওষুধের এবং ফোনের দোকান ছিল খোকনের। কয়েকদিন আগে দোকান বন্ধ করে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার সময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, আক্রমণকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে মারধর করে এবং পরে মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে জ্বলন্ত অবস্থায় তিনি পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানা যায়, শরীরের অধিকাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে দাবি করেছে, দীপু চন্দ্র দাসের পর এবার খোকন দাসকে ইসলামপন্থী জনতা আক্রমণ করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং আঘাতের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পোস্টে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি হিন্দুদের উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
খোকন চন্দ্র দাসের স্ত্রী সীমা দাস জানান, তাঁর স্বামীর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। কেন এই হামলা ঘটল, তা বুঝে উঠতে না পেরে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে দীপু দাস, অমৃত মণ্ডল এবং বিজেন্দ্র বিশ্বাস নিহত হন বলে অভিযোগ।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।