"সন্তানদের ফিরিয়ে দিন", ইরানে অশান্তি আবহে মোদীর কাছে অনুরোধ অভিভাবকদের


ইরানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সেখানে অধ্যয়নরত কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বুধবার কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন জানালেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। শ্রীনগরের প্রেস এনক্লেভে জড়ো হয়ে বহু উৎকণ্ঠিত অভিভাবক সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানে ছাত্রছাত্রী-সহ ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। এই পরিস্থিতিতে এক অভিভাবক সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা প্রধানমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, যাতে ইরান থেকে আমাদের সন্তানদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়।” সংবাদ সংস্থা পিটিআই এই মন্তব্য উদ্ধৃত করেছে।

কেন্দ্র সরকারের আগের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওই অভিভাবক আরও বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং সন্তানদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে—এই আশাই তাঁরা করছেন।

অভিভাবকদের দাবি, তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ছাত্রছাত্রীদের নিজ উদ্যোগে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁদের বলা হয়েছে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেরাই যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে। ওই অভিভাবক জানান, “আইএসডি কলের মাধ্যমে খুব কষ্টে আমরা সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছি। এই পরিস্থিতিতে আমরা কেন্দ্র সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, যাতে তারা দ্রুত উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করে এবং আমাদের সন্তানদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনে।”

 ইডির দায়ের করা জোড়া মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বর্তমান আবেদনটি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে রাজ্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের মতে, এই ধরনের অভিযোগ দেশের আইন ও শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং একে হালকাভাবে নেওয়া যায় না।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আইনের শাসন বজায় রাখতে এবং প্রতিটি তদন্তকারী সংস্থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে এই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রয়োজন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও অপরাধী যাতে কোনও রাজ্যের সুরক্ষার আড়ালে থেকে আইনের হাত এড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব।

ডিভিশন বেঞ্চ আরও উল্লেখ করেছে যে এই মামলায় আইনের বৃহত্তর প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। সেগুলি অমীমাংসিত রেখে দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এক বা একাধিক রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মত আদালতের।

তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে যে কোনও তদন্তকারী সংস্থারই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। কিন্তু শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, যখন কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্তে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে, তখন রাজনৈতিক কার্যকলাপ বা দলীয় পরিচয়ের আড়ালে সেই তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করা তার সাংবিধানিক ক্ষমতার পরিপন্থী।

Post a Comment

Previous Post Next Post