বাংলাদেশে ফের হুন্দু যুবককে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ছড়ালো চরম চাঞ্চল্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম এলাকায় এক হিন্দু অটোচালককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে মৃতের নাম সমীর দাস (২৮)। রবিবার গভীর রাতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা সামনে এল। ফের ইউনূসের দেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুনের ভয়ঙ্কর অভিযোগ। জানা গিয়েছে হামলাকারীরা সমীর দাসকে প্রথমে বেধড়ক মারধর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করে। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর ব্যাটারি চালিত অটোটি লুট করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
স্থানীয় থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে এই খুন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। নিহতের পরিবার থানায় এফআইআর দায়ের করবে বলে জানিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৭ কোটি জনসংখ্যার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই অস্থিরতা বেড়েছে। ইসলামপন্থী শক্তির পুনরুত্থানে উদ্বেগে রয়েছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা, যার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও রয়েছেন। দেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও কম।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রদায়িক হিংসা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
এদিকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সমালোচনা করেছে ভারতও। বিশেষ করে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় নয়াদিল্লি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মহম্মদ ইউনুস ভারতের এই অভিযোগকে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর এবং তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর লাগাতার হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই হামলাগুলিকে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক বিরোধ বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা চরমপন্থীদের আরও উৎসাহিত করছে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।