কাজের চাপ এবং হয়রানির অভিযোগ অব্যাহত। এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মুর্শিদাবাদে স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেন এক বৃদ্ধা। বুধবার সেই জেলাতেই বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগ করে জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন দুই বিধায়ক। অন্য দিকে, মালদহে ‘কাজের চাপে’ জ্ঞান হারালেন এক বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)। তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ওই বিএলওর শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বলে খবর।
এসআইআরের শুনানি ঘিরে অব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সংবেদনহীনতার অভিযোগ উঠেছে মুর্শিদাবাদে। মঙ্গলবার কান্দি বিডিও অফিসে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ৮১ বছরের এক প্রবীণা। যুগলদাসী কাপাসিয়া নামে ওই বৃদ্ধার চিকিৎসা চলছে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে। বড়ঞাতে শুনানিকেন্দ্র দোতলায় হওয়ায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সিঁড়ি দিয়ে চ্যাংদোলা করে তোলার দৃশ্য দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হিজল পঞ্চায়েতের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে আসা যুগলদাসী অসুস্থ শরীর নিয়ে এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। আচমকা তিনি অফিসের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত কয়েক জন এবং শাসকদলের কয়েক জন কর্মী বৃদ্ধাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই বৃদ্ধার ‘সেরিব্রাল অ্যাটাক’ হয়েছে। বৃদ্ধার পুত্র সুধীর কাপাসিয়া বলেন, “মা কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ। প্রশাসনকে সব জানিয়েও লাভ হয়নি। এই বয়সে শুনানিতে আসার ধকল সইতে না পেরেই আজ এই অবস্থা।” মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস জানান, গোটা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্য দিকে, এসআইআরের নামে ‘বৈধ ভোটার নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে’, এই অভিযোগ করে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান দুই বিধায়ক। দুপুরে বেলডাঙা এবং রেজিনগর বিধানসভার দুই বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ ও রবিউল আলম চৌধুরীর সঙ্গে বেলডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বেলডাঙা-১ বিডিও অফিসের সামনে জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়। ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশ বাহিনী।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিএলও-র দায়িত্বে রয়েছেন মাশরেকুল আলম। বুধবার শুনানির নোটিস বিতরণ করতে গিয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ভালুকাবাজারের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ব্লক প্রশাসনকে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে মাশরেকুলকে বিএলও-র দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।