২০২৬ আইপিএল (IPL 2026) টুর্নামেন্টের জন্য মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। তবে মরশুম শুরুর কয়েকমাস আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল কেকেআর (KKR) ব্রিগেড। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে যেন রিলিজ় করে দেয় শাহরুখ খানের দল।
৯.২০ কোটি টাকায় মুস্তাফিজ়ুরকে কিনেছিল KKR
এই প্রসঙ্গে আপনাদের জানিয়ে রাখি, গত নভেম্বর মাসের শেষদিকে ২০২৬ আইপিএল টুর্নামেন্টের জন্য একটি মিনি অকশন আয়োজন করা হয়েছিল। এই নিলাম অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পেস তারকা মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে ৯.২০ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইতিপূর্বে, আইপিএল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আর কোনও ক্রিকেটার এত বেশি টাকা উপার্জন করতে পারেননি। সেকারণে বিষয়টা আরও বেশি করে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল। কিন্তু, নিলাম অনুষ্ঠানের পর আচমকাই ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি দেখা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার যাবতীয় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
IPL-য়ে পাকাপাকিভাবে 'বয়কট' বাংলাদেশ?
এরপর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের একাংশ দাবি তুলতে শুরু করেছিল, মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স যেন ছেড়ে দেয়। যত দিন গড়িয়েছে, সমর্থকদের এই দাবি ততই জোরাল হয়েছে। কিন্তু, কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোনও টু শব্দ করা হয়নি। অবশেষে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মুস্তাফিজ়ুরকে যেত অবিলম্বে রিলিজ় করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের পর থেকে পাকিস্তানকেও আইপিএল টুর্নামেন্টে নির্বাসিত করেছে বিসিসিআই। মুম্বই হামলার পর থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের উপর এই বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এবার সেই একই পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্যও গ্রহণ করা হল।
৫ আইপিএল দলের হয়ে খেলেছেন মুস্তাফিজ়
২০১৬ সালে বাঁ-হাতি এই পেস বোলার সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএল ডেবিউ করেন। সেই বছরই হায়দরাবাদ আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পরের বছর চোটের কারণে তিনি মাত্র একটাই ম্য়াচ খেলতে পারেন। এরপর ২০১৮ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দলে যোগ দেন। ২০২১ সালে চলে যান রাজস্থান রয়্যালসে। এরপর ২ মরশুম তাঁকে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলতে দেখা যায়। ২০২৫ আইপিএল টুর্নামেন্টে তিনি চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেন এবং ৯ ম্য়াচে ১৪ উইকেট শিকার করেন। পরের বছর ফের দিল্লি ক্যাপিটালসে চলে যান তিনি। তবে চোটের কারণে মাত্র তিনটে ম্য়াচই খেলতে পেরেছিলেন।