গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ফের কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা মুখে কথা বলি না, কাজ করে দেখাই। ওরা মিথ্যাবাদী, দুরাচার আর অত্যাচার করাই ওদের কাজ।” একই সঙ্গে SIR (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) ইস্যুতে ফের একবার কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি এই ইস্যুতে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেউ কেউ আমাদের উন্নয়নের পাঁচালীকে ব্যঙ্গ করে ব্যাঙমা পাঁচালী বলছে। আমি কথা বলব না, কথা বলবে আমার প্রকল্প।” তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের একের পর এক উন্নয়নমূলক প্রকল্পই সব সমালোচনার জবাব দেবে। তিনি বলেন, মানুষের পাশে থেকে কাজ করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।
SIR ইস্যুতে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “৮৫-৯০ বছরের বয়স্ক মানুষ, যাঁরা নাকে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে আছেন, তাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এমনকি গর্ভবতী মহিলাদেরও হাজিরা দিতে বলা হচ্ছে। এই অবস্থাতেও কি তাঁদের প্রমাণ করতে হবে তাঁরা এ দেশের নাগরিক কিনা?” মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এই ধরনের পদক্ষেপ কি মানবিক?
এদিন তিনি আরও দাবি করেন, SIR প্রক্রিয়ার কারণে গত দু’মাসে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এতগুলো মানুষ মারা গেল, তাতে কি কারও হৃদয় কাঁদে না? যারা মানুষের নাম কাটছে, তাদের নিজেদের বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট আছে?” তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে বিনাশ করার ক্ষমতা কারও নেই।”
নির্বাচন কমিশনকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করলে বা বাসস্থানের ঠিকানা বদলালে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “এটা কি অন্যায় নয়?” এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেন তিনি।