নন্দীগ্রামে প্রশ্নে কেন সংখ্যালঘু! সরব শাসকদল


রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা এলাকা থেকে প্রায় ৩৪ হাজার ভোটার বাদ দিতে উদ্যোগী নির্বাচন কমিশন, যাঁদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু- এমনটাই অভিযোগ করল তৃণমূল। নন্দীগ্রাম বিধানসভায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি অর্থাৎ তথ্যগত অসঙ্গতির সংখ্যাটা প্রায় ৩৪ হাজার।

প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশন মৌখিক ভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিকে শুনানি করতে বললেও লিখিত নির্দেশিকা এখনও দেয়নি। জেলা প্রশাসনের দাবি, লিখিত নির্দেশিকার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। নির্দেশিকা এলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, 'সার' (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন)-এ যাঁদের ২০০২-এর তালিকার সঙ্গে কোনও সংযোগ পাওয়া যায়নি অর্থাৎ নো ম্যাপিং ভোটার, বর্তমানে তাঁদের শুনানি চলছে। এরপরে নির্বাচন কমিশনের তরফে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি প্রকাশ করা হয়। দেখা যায়, সংখ্যালঘু ভোটারদের ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০০২-এ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা ছিল বাংলায় লেখা। নির্বাচন কমিশন ২০০২-এর ভোটার তালিকা সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে ইংরেজিতে অনুবাদ করে। আর তা করতে গিয়েই গোল বাধে। দেখা যায়, ২০০২-এ কারও নামের আগে লেখা ছিল শেখ। ইংরেজিতে লেখা হতো এস কে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সফটওয়‍্যারের মাধ্যমে অনুবাদ করায় সেটি হয়ে গিয়েছে কখনও Seek, কখনও Shek।

আবার ২০০২-এ ভোটার তালিকায় কারও পদবি ছিল মল্লিক। কখনও সেটা হয়েছে Mallick, কখনও Mallik। এ ক্ষেত্রে ভোটারকেই প্রমাণ করতে হবে যে, নামের বানান ভিন্ন হলেও তিনি একই ব্যক্তি। সেই বিষয়ে প্রামাণ্য নথিও জমা দিতে হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, নন্দীগ্রাম বিধানসভায় প্রায় ৩৪ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে। তৃণমূলের দাবি, ওই ভোটারদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিক। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, 'বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির শুনানি করতে হবে।'

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস রিশিন ইসমাইল বলেন, 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির ক্ষেত্রে কী করা হবে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের লিখিত নির্দেশ আসেনি। নির্দেশিকা এলে সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।'

নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য শেখ সুফিয়ান বলেন, 'নির্বাচন কমিশন বিজেপির দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ভোটার বাদ দেওয়ার জন্য এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সৃষ্টি করেছে। যাতে সংখ্যালঘুদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী পরাজিত হবে জেনেই সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে এই কৌশল করছে নির্বাচন কমিশন।'

বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, 'যদি কম্পিউটার ভুল করে তা হলে শুনানিতে আসতে পারবেন বা পরিবারের তরফে কেউ এলে শুনানিতে নিজেদের কথাটা বলতে পারবেন। তৃণমূল ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।'

Post a Comment

Previous Post Next Post