ভেনেজুয়েলায় রাজধানী কারাকাসে তীব্র বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কারাকাসের বিভিন্ন এলাকা এবং মাইকুয়েটিয়ার কাছে লা গুয়াইরা বন্দর অঞ্চলেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয় যে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা প্রায় সম্পূর্ণরূপে খালি করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুট পরিবর্তন করেছে।
শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে তীব্র বিস্ফোরণ এবং আকাশে যুদ্ধ বিমানের শব্দে রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ২টো নাগাদ কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের সময় কিছু বিমানও অত্যন্ত নিম্ন উচ্চতায় উড়তে দেখা গেছে। এই ঘটনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং অনেক মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
বিস্ফোরণের ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা, সময় এবং অবস্থান যাচাই করা যায়নি। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এবং উৎস এখনও স্পষ্ট নয়। এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক বেশ উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে স্থল পদক্ষেপের সম্ভাবনা উত্থাপন করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের সেনাবাহিনী মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত নৌকাগুলিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে।
সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং এলাকা, যেখানে মাদক বোঝাই নৌকা ছিল, তা মার্কিন বাহিনী ধ্বংস করেছে। যদি এই আক্রমণের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি ভেনেজুয়েলার মাটিতে মার্কিন স্থল আক্রমণের প্রথম ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই হামলার কথা নিশ্চিত বা সরাসরি অস্বীকার করেননি, তবে তিনি বলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ার পরও তিনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। সম্প্রতি আমেরিকা ভেনেজুয়েলার উপর চাপ বাড়িয়েছে, আকাশসীমা বন্ধ করেছে, নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং তেল বহনকারী ট্যাঙ্কার আটক করেছে। যদিও এই হামলার বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং রাজধানীতে নিরাপত্তা ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।