১০৪ বছরেও মেলেনি রেহাই! পরাধীন ভারতের সাক্ষী শেখ ইব্রাহিমকে SIR শুনানিতে তলব


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন, দেখেছেন হাওড়া ব্রিজ তৈরি হওয়া। গান্ধীজীর ডাকে সামিল হয়েছেন ভারত ছাড়ো আন্দোলনেও। সেই পরাধীন ভারতে জন্মানো ১০৪ বছর বয়সী শেখ ইব্রাহিমের নাগরিকত্ব নিয়েই কি এবার সংশয়? জামালপুর বিধানসভার বত্রিশবিঘা গ্রামের এই প্রবীণ নাগরিককে সশরীরে বিডিও অফিসে হাজির হয়ে এসআইআর (SIR) শুনানিতে যোগ দেওয়ার নোটিশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন। আর এই ঘটনা ঘিরেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক।

জামালপুরের বত্রিশবিঘা গ্রামের আদি বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে তাঁর জন্ম। বর্তমানে তাঁর বয়স ১০৪ বছর। অথচ এই বয়সেও তাঁকে তথ্যগত অসঙ্গতির (Logical Discrepancy) দোহাই দিয়ে সশরীরে জামালপুর বিডিও অফিসে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এক প্রতিনিধির দাবি, ভোটার কার্ডে নাম 'শেখ ইব্রাহিম' থাকলেও আধার কার্ডে রয়েছে 'ইব্রাহিম শেখ'। এই সামান্য হেরফেরের জেরেই ১০৪ বছরের বৃদ্ধকে নোটিশ ধরানো হয়েছে।

কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ৮৫ বছরের বেশি বয়স্ক ভোটারদের বাড়ি গিয়ে পরিষেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু ১০৪ বছরের এক বৃদ্ধকে কেন বিডিও অফিসে আসতে বলা হলো, সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শেখ ইব্রাহিমের ছেলেরা। বৃদ্ধের দুই ছেলে শেখ বাগবুল ইসলাম ও শেখ রায়হান উদ্দিন বলেন, "কমিশন কি চোখে দেখতে পায় না? বাবাকে এই অবস্থায় বিডিও অফিসে নিয়ে যাওয়া অমানবিক।"

চোখের জলে অতীতের স্মৃতি হাতড়ে শেখ ইব্রাহিম বলেন, "ভারত স্বাধীন হতে দেখেছি, গান্ধীজীর মিছিলে গিয়েছি। আজ এই বয়সে হাঁটতে পারি না, তবুও কেন আমায় ডাকা হলো? কমিশনের লোকজন কি আমার বাড়িতে এসে খোঁজ নিতে পারতেন না?"

Post a Comment

Previous Post Next Post