"CBI লার্জার কন্সপিরেসির অংশ, ওরা কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছে.." ! অভিযোগ RG করের নিহত চিকিৎসকের মায়ের


কলকাতা: CBI লার্জার কন্সপিরেসির অংশ। ওরা কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। অভিযোগ করলেন আরজি করের নিহত চিকিৎসকের মা। আদালতে তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা CBI-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী। পাল্টা জবাব দিয়েছে CBI

আর জি কর কর্মরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে নৃশংস খুন।প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে রাজ্য থেকে দেশ।বার বার পথে নেমেছেন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। পুলিশকর্মী অনুপ দত্তের গ্রেফতারি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন তাঁরা।  এদিন মামলার শুনানি হয়, শিয়ালদা ACJM আদালতে। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আইনজীবী বলেন, আমরা মনে করি, এই মামলায় CBI নিজেই লার্জার কন্সপিরেসির অংশ। সেই কারণেই ASI অনুপ দত্তকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। অনুপের নির্দেশেই ওই খুন-ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় আরজি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রাতে, যে ৪ চিকিৎসকের সঙ্গে নিহত চিকিৎসক খাবার খেয়েছিলেন, তাঁদেরকেও গ্রেফতার করা হয়নি। 

CBI-র আইনজীবী বলেন, যার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তার শাস্তিও হয়েছে। পরিবার কেন এই মামলাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছে? পরিবারের দাবি মেনে প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে পুলিশিং-এ গাফিলতি পাওয়া গিয়েছে। সেটা ক্রাইম নয়, এবং গ্রেফতার করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। অনুপ দত্তকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রমাণ না পেলে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। 
 
কলকাতা পুলিশের কর্মীদের সংগঠন - ওয়েলফেয়ার কমিটির ছাতার নীচে ছিল ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। যে কারণে তার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজেও অবাধ বিচরণ ছিল। ASI অনুপ দত্ত সেই ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য। আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে, ২০২৪ সালের অগাস্টে অনুপ দত্তকে ডেকেছিল CBI। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর এড়াতে, কার্যত ছুটে পালান কলকাতা পুলিশের অ্য়াসিস্টান্ট সাব ইনস্পেক্টর  অনুপ দত্ত। সেই ASI অনুপ দত্তকেই গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন নিহত চিকিৎসকের মা-বাবা। তাঁদের অভিযোগ, সিবিআইও ষড়যন্ত্রের অংশ। নিহত চিকিৎসকের মা বলেন,  CBI লার্জার কন্সপিরেসির পার্ট ওরা কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। আমার কথা শোনা হয়নি। আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার। 

ঘটনার দিনের হাসপাতালের CCTV ফুটেজ নিয়েও এদিন আদালতে প্রশ্ন তোলেন নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আইনজীবী। তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাত ৯টা থেকে পরের দিন বেলা ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পুরো সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের দেওয়া হক। প্রয়োজনে কোর্টে বসে দেখব। কিন্তু CBI দিচ্ছে না। CFSL রিপোর্টে ধস্তাধস্তির চিহ্ন ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কী করে তা সম্ভব! বোঝাই যাচ্ছে, ক্রাইম অন্য জায়গায় করে বডি আর এক জায়গায় রেখে দেওয়া হয়েছে। 

CBI-র আইনজীবী বলেন, CCTV ফুটেজের যে অংশ জরুরি বলে মনে হয়েছে, তা চার্জশিটের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে।নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আইনজীবী বলেন, CBI তার স্টেটাট রিপোর্টেই বলেছে - ঘটনার পুরো ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়নি। তার কারণ কী? তাহলে কি সঞ্জয় রায়ের হেড ফোন দেহের পাশে রেখে দেওয়া হয়েছিল? কিছু লুকনোর জন্যই কি পুরো ভিডিও করা হয়নি? অটোপসি রিপোর্ট নিয়ে CBI স্টেয়াস রিপোর্টে বলেছে ৯ তারিখ থেকে ১১ তারিখ স্যাম্পল হাসপাতালেই পড়েছিল। সেই সময় তা পাল্টে দেওয়া হয়নি তো? পুলিশকর্মীরাই সব লুকিয়ে দিয়েছে, নাকি CBI লুকিয়ে দিয়েছে?

CBI দাবি করে, কোনও তথ্য লুকোনো হচ্ছে না। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ক্লোজার রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আইনজীবী  অমর্ত্য দে বলেন, কী কী দাবি করেছে তা নিয়ে বলেছে। অনুপ দত্তকে গ্রেফতার করতে হবে। যে চার ডাক্তার রাতে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছিল, তাদের জেরা করতে হবে। ৮-৯ অগাস্ট দুপুর পর্যন্ত গোটা সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। যদি তাতে কিছু ধরা নাই পড়ে, তাহলে সিবিআই দিচ্ছে না কেন? আরজি করেন ঘটনার পরে শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক এবং আরজি কর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করলেও তাঁকে কার্যত ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আইনজীবী বলেন, সুদীপ্ত রায়কে কেন গ্রেফতার করা হল না? CBI আদালতে জানায়, সুদীপ্ত রায় অপরাধের সঙ্গে যুক্ত,এমন প্রমাণ মেলেনি।

Post a Comment

Previous Post Next Post