‘ওই ঐতিহাসিক মুহূর্ত…’, সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে কী বললেন কুণাল?


প্রথমে আইনজীবীদের সঙ্গে ছিলেন। তারপর একসময় নিজেই এসআইআর নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন। শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। মমতার সওয়াল নিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীকে ‘একশোয় পাঁচশো’ দিলেন তিনি। কী বললেন কুণাল? 

শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল নিয়ে কুণাণ বলেন, “আজ মমতাদি পুরো একশোয় একশো। একশো কী। একশোয় দুশো। দুশো কী। একশোয় পাঁচশো। আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে যে পয়েন্ট তুলেছেন, তাতে সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দিয়েছেন। গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিয়েছেন। এগুলো বিরোধীরা দেখুক। এবং ওই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের সামনে সওয়াল শেষ করে বলছেন, সেভ বেঙ্গল, সেভ ডেমোক্রেসি। ইতিহাস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে যাঁরা আইনজীবী ছিলেন, তাঁদের বাইরেও নতুন পয়েন্ট যেভাবে দাপটের সঙ্গে আদালতকে পূর্ণ সম্মান দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন এবং তিনি যে ঝড় তুলেছেন, তাতে নাজেহাল লাগছিল নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীদের। শেষে সময় চাইলেন।”

কুণাল আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে আজ ইতিহাস গড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দেখিয়ে দিলেন, বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বাংলার কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই প্রথম সওয়াল করছেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বঙ্গ বিরোধী চক্রান্ত, মৃত্যু মিছিল, হয়রানির যে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে সওয়াল করলেন। মামলা এখনও চলছে, শুনানির দিন স্থির হয়েছে। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত যা হয়েছে, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সওয়াল করে প্রথম দফাতেই নৈতিক জয়টা ছিনিয়ে নিয়ে এসেছেন বাংলার মানুষের স্বার্থে। সুপ্রিম কোর্ট অনুভব করেছে, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নামে অত্যাচার হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝড়ের কাছে ল্যাজেগোবরে হয়েছে।”

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ রায় বলেন, “এটাকে বলা হয়, রাজনৈতিক অসততা। এই রাজ্যে ৯০ হাজার কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করছেন। আপনার নির্দেশ ছাড়া হয়েছিল কি? কিংবা কীভাবে হয়েছিল? এই যে অত্যাচার হল মানুষের উপর, কেন চুপ করেছিলেন? এই এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে যখন দেশব্যাপী লড়াই হয়েছিল, তখন আপনি চুপ করেছিলেন। জল মাপছিলেন। আর এখন সওয়াল করছেন।”

Post a Comment

Previous Post Next Post