দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে চার্জশিটে নাম নেই প্রশান্ত বর্মণের


স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণের। তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই নির্দেশ মানেননি তিনি। অন্য দিকে, এই খুনের ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। তাতে নাম নেই প্রশান্ত বর্মণের। চার্জশিটে একাধিক বার তাঁকে ‘পলাতক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই মামলাতেই বিধাননগর আদালতে ওই মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে তুফান থাপা, রাজু ঢালি, সজল সরকার, গোবিন্দ সরকার এবং বিবেকানন্দ সরকারের নাম আছে। খুন, অপহরণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে প্রশান্ত বর্মণের নাম যোগ করা যেতে পারে। এই ঘটনার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

যদিও আইনজীবী শীর্ষেন্দু সিংহ রায়ের দাবি, মামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীকে ‘পলাতক’ বলে উল্লেখ করে চার্জশিট জমা দেওয়ার অর্থ তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মামলায় পুলিশ প্রভাবশালী ওই বিডিওকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই মামলায় মূল অভিযুক্তকে পুলিশ আড়াল করতে চাইছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষও।

স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধারের পরে প্রশান্ত বর্মণকে প্রধান অভিযুক্ত বলে দাবি করে মৃতের পরিবার। এই অভিযোগ ওঠার পরেই বিডিও-র পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছিল তাঁকে। ওই খুনের ঘটনায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তবে তিনি তা না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বিধাননগর আদালত। ওই অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত বর্মণ। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ।

Post a Comment

Previous Post Next Post