জানা যায়, সন্তানের দায়িত্ব কার তা নিয়েও রাহুল-প্রিয়াঙ্কার মধ্যে অশান্তি একসময়ে চরমে পৌঁছেছিল। ২০১৮ সালে আদালতে বিচ্ছেদ মামলাও দায়ের করা হয়। সেই সময় সহজের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। শিশুমন তখন কিছুই বোঝে না। সাক্ষী ছিল শুধু সহজের নিষ্পাপ দু’টো চোখ। রাস্তায় যখন মা-বাবার হাত ধরে বাচ্চারা হেঁটে যেত তখন তার সঙ্গী শুধুই মা। এই অপূর্ণতার সামনে সে ছিল এক নির্বাক দর্শক। মা-বাবার অশান্তি, আলাদা থাকা, সম্পর্কের এই যোগ-বিয়োগ তার বোধগম্যই হত না।
তবে শেষপর্যন্ত সবই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। সহজের জন্যই শেষ পর্যন্ত জোড়া লেগেছিল রাহুল-প্রিয়াঙ্কার ভাঙা বিয়ে। সে হয়তো আজও জানে না জীবনের অনেক বড় অঙ্কের সমাধান করেছিল। রাহুল প্রায়ই সহজের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। তিনজন একসঙ্গে বেশ কিছু ভালো সময় কাটাতে শুরু করেন। ২০২২ সাল থেকে ধীরে ধীরে ফের পরস্পরের কাছাকাছি আসেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। একছাদের তলায় থাকতে শুরু করেন টলিপাড়ার এই পাওয়ার কাপল। তুলে নেওয়া হয় ডিভোর্সের মামলাও। ছোট্ট সহজের পরিবার ফের পূর্ণতা পেয়েছিল।
বাবার সঙ্গে সহজের সম্পর্কটা কিন্তু বিচ্ছেদ-মিলনের এই জটিল ধাঁধার ভিতরেও হারিয়ে যায়নি। রাহুল সব সময় মা প্রিয়াঙ্কার আত্মত্যাগ ও ছেলের মুখে হাসি ফোটানোর নিরলস প্রয়াসের কথা বলেছেন সহজকে। পাশাপাশি বইমেলার ধুলো, কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাথকে চিনতে শিখিয়েছেন পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে। শিখিয়েছিলেন বাংলা ভাষাকে প্রাণপণ ভালোবাসতে। রবিবার বিকেল থেকে বাবার সেই সব কথা ‘অতীত’ হয়ে গেল সহজের কাছে। কিন্তু বাবার হাত কি কখনও বিচ্ছিন্ন হয়? যত সময় যাবে ততই সহজ বুঝবে হয় না। কক্ষনও না। কেবল এতদিন বাবাকে সে যেভাবে পেয়েছে, এবার অন্যভাবে পাওয়ার পালা। বাবার লেখা, অভিনয়, সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতির কোলাজ তার সঙ্গে থাকবে। কিন্তু… একটি মানুষের জাগতিক উপস্থিতির অভাব তবুও তাকে পীড়িত করবে। বড় হতে হতে মায়ের সঙ্গে এই অভাবকে কাটিয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে তাকে। ঘুমের ভিতরের একলা জগতে হয়তো ফুটে উঠবে বাবার হাসি! মায়ের গা ঘেঁষে বসে থাকার সময় মন ভাবতে চাইবে, এই সময় বাবা এখানে থাকলে কী হত! এই সব ভাবনা ও স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়েই এবার সহজের পথ চলা। মাত্র বারো বছরে জীবনের এই লৌহকঠিন বাস্তবের সঙ্গে লড়াই সহজ নয়। তবু, যে নামে সহজ, সে জীবনের অতলান্ত প্রতিকূলতাকেও সহজ লড়াইয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে পারবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। যত সময় যাবে বাবার আকস্মিক প্রয়াণের ‘তেতো’ বাস্তবকে অতিক্রম করে সহজ নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সেই পঙক্তির অনিবার্যতাকে- ‘কাল যা ছিল শোক, আজ তাই হয়েছে শান্তি’…