বাংলায় ভরাডুবি হলেও কলকাতা পুরসভায় এখনও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। মেয়রের চেয়ারে এখনও জ্বলজ্বল করছে মমতা ব্যানার্জির অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে পরিচিত ফিরহাদ (ববি) হাকিম। অথচ সেই পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট থেকেই একের পর এক নোটিস যাচ্ছে খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি হরিশ মুখার্জি রোডের অফিস, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এবং কালীঘাটে তাঁর মায়ের বাড়িতে। এই পরিস্থিতিতে জল্পনা তৈরি হয়েছে, এবার কি কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেবেন ফিরহাদ? পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেই এবার কলকাতা পুরসভার সব দলীয় কাউন্সিলরদের বৈঠকে ডাকলেন তৃণমূল নেত্রী। তৃণমূল সূত্রের দাবি, গত সোমবার মেয়র এবং মেয়রের পারিষদদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেখানেই ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি মমতা প্রশ্ন করেন, “এগুলো হচ্ছেটা কী? এই সব নোটিস কে পাঠাচ্ছে? কেন পাঠাচ্ছে? তুমি তাহলে কী করছ?” কিন্তু ফিরহাদ বাইরেও জানান, এই সমস্ত নোটিসের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে, ফিরহাদের গলায় আগের মতো সেই তেজ আর নেই। ফলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগছে না। জানা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটের বাড়িতে কলকাতা পুরসভার সব দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করবেন মমতা ব্যানার্জি।
বিধানসভা ভোটের ফলে কলকাতাতেও বিজেপি ঝড় আছড়ে পড়েছে। কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতেই এগিয়ে বিজেপি প্রার্থীরা। কলকাতা পুরসভা এখনও খাতায়-কলমে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও এরপর একের পর এক ঘটনায় তৃণমূলের দখলে কলকাতা পুরসভা আর কতদিন থাকবে, তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার সিংহভাগ তৃণমূল কাউন্সিলরকে তেমন ভাবে আর দেখাই যাচ্ছে না। উল্টে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়া, তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে বহু কাউন্সিলরই এখন তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তা খুঁজছেন। ফলে মেয়র হয়েও ফিরহাদ হাকিমের এখন আর সেই ক্ষমতা নেই। সেই সূত্রেই জল্পনা, মেয়র পদ থেকে পদত্য়াগ করতে পারেন ফিরহাদ। আর সেই কারণেই তড়িঘড়ি কাউন্সিলরদের বৈঠকে ডাকলেন মমতা।