নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার জন্য বহু স্কুল অনেক আগেই অধিগ্রহণ হয়েছে। সেখানে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু গাইঘাটার সুটিয়া বারাসত পল্লি উন্নয়ন বিদ্যাপীঠে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন-পাঠন। কেন এই অবস্থা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাহিনীর থাকার জন্য পুলিশ প্রশাসন আগেই স্কুলটি অধিগ্রহণ করলেও, বাহিনী না আসায় সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। জানা গিয়েছে, গত ২ মার্চ গাইঘাটা থানার তরফে চিঠি দিয়ে স্কুলটি নেওয়া হয়। পরের দিন থেকেই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় ক্লাস। স্কুলের চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ সরিয়ে ফেলা হয়। অথচ, এখনও পর্যন্ত সেখানে কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছয় নি। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তন্ময় নন্দী জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে প্রশাসন স্কুল নিয়েছিল। কিন্তু এখনও বাহিনী আসেনি।
একাধিকবার থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে স্কুল খোলার আবেদন জানান হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের অভিযোগ, এক হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অধিকাংশ পড়ুয়াই আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের হওয়ায় দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে পড়াশোনা থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। বনগাঁ পুলিশ জেলার কর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই স্কুলটি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলায় ছয় কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছেছে এবং তাদের অন্যত্র রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বাহিনী আসতে পারে, সেই কারণেই আগেভাগে স্কুলগুলি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের যুক্তি, খুব অল্প নোটিশে বাহিনী এসে পড়তে পারে, তাই আগে থেকেই পরিকাঠামো তৈরি রাখা প্রয়োজন।