শুরু হচ্ছে অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশন, এই নিয়মগুলি না মানলে বাতিল হতে পারে আবেদন


তুষারাবৃত হিমালয়ের কোলে অমরনাথের দর্শন পেতে প্রতি বছর মুখিয়ে থাকেন অসংখ্য ভক্ত। এ বার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতের ৫৫৪টি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পুণ্যার্থীরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। চলতি বছরে আগে এলে আগে সুযোগের (First come first service) ভিত্তিতে ভক্তদের পারমিট দেওয়া হবে। এ ছাড়াও, প্রতিটি রুটের জন্য প্রতিদিনের একটি নির্দিষ্ট কোটা রাখা হয়েছে চলতি বছর। বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন এবং অনলাইন পারমিট-সহ আরও একাধিক পদ্ধতির মাধ্যমে চলতি বছরের যাত্রা আরও সুশৃঙ্খল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অমরনাথ যাত্রার মাহাত্ম্য

অমরনাথ গুহাকে শিবের পবিত্র আবাসস্থল হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা বরফের শিবলিঙ্গ চাঁদের হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে আকার পরিবর্তন করে বলে অনেকের বিশ্বাস। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৮৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই গুহায় পৌঁছতে ভক্তদের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়, যা অত্যন্ত দুর্গম এবং কঠিন। এই তীর্থযাত্রা সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ দিন ধরে চলে।

আবেদনের বয়সসীমা ও যোগ্যতা

অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স ১৩ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ১৩ বছরের কম বা ৭০ বছরের বেশি বয়সি কাউকে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয় না। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। পাহাড়ি চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড।

যাত্রার রুট ও দূরত্ব

পুণ্যার্থীরা সাধারণত দুটি রুট দিয়ে অমরনাথ গুহায় পৌঁছতে পারেন। একটি রুট পহেলগাম থেকে শুরু হয়, যেটির দূরত্ব প্রায় ৪৬ কিলোমিটার। অন্যটি হলো বালতাল রুট, যেটির দূরত্ব মাত্র ১৪ কিলোমিটার। বালতাল রুটটি দৈর্ঘ্যে ছোট হলেও এটি বেশ খাড়া এবং চ্যালেঞ্জিং। যাত্রীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনও একটি পথ বেছে নিতে পারেন।

RFID কার্ড সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক

জম্মু ও কাশ্মীর নির্দিষ্ট স্থান থেকে প্রত্যেক নিবন্ধিত যাত্রীকে RFID কার্ড সংগ্রহ করতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। এই কার্ড ছাড়া কোনও যাত্রীকে অমরনাথ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কার্ড সংগ্রহের সময়ে অবশ্যই নিজের আধার কার্ডের তথ্য সঙ্গে রাখতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভক্তদের এই RFID কার্ড গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post