নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল আগেই। এ বার সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া জারি রাখার আবেদন জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। ইতিমধ্যে এই মর্মে স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে পর্ষদের তরফে।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পর্ষদ সভাপতি জানান, যে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছে তার বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন ঘোষণার আগেই করা হয়েছে এবং যে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে তা-ও নির্বাচনের পরেই হবে। এতে নির্বাচনী আদর্শ বিধি কোথাও লঙ্ঘিত হচ্ছে না বলেই দাবি পর্ষদের। ফলে ইন্টারভিউ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইছেন তাঁরা। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কার্যত নির্বাচন কমিশনের উপরই দায় ঠেলে দিয়েছে পর্ষদ।
পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বৃহস্পতিবার জানান, গত ২৭ মার্চ নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরকে চিঠি দেয়। ৩০ মার্চ সেই চিঠি পৌঁছয় পর্ষদে। সে দিনই বিস্তারিত জানানো হয় পর্ষদের তরফে। গৌতম পাল বলেন, “পর্ষদ এই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।” সূত্রের খবর, স্কুল শিক্ষা দফতর থেকেও ইতিমধ্যেই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।
বুধবারই ইন্টারভিউ স্থগিত করার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনও কারণের উল্লেখ করা হয়নি। প্রাথমিক ভাবে পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছিল, নির্বাচনের সময়ে যাতায়াতের অসুবিধা হতে পারে। এ কথা জানিয়ে বহু চাকরিপ্রার্থী সংসদে ই-মেল করেছেন। তাঁদের কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে।
২০২২-এ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৩,৫০৬ প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য ২০২৫-এর ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম থেকে চতুর্থ দফার ইন্টারভিউ শেষ হয়েছে আগেই। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পঞ্চম থেকে দশম দফায় নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার ইন্টারভিউ শুরু হয়। গত ১৯ মার্চ পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়া জেলার ইন্টারভিউ সম্পন্ন হয়েছে। ষষ্ঠ পর্যায়ে গত ২৩ মার্চ পুরুলিয়া জেলার জন্য ইন্টারভিউ শুরু হয়। কিন্তু তত দিনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, দশম পর্যায়ের ইন্টারভিউ আগামী ২৯ মে পর্যন্ত ধরা হয়েছিল।
নির্বাচন প্রক্রিয়া জারি থাকায় আদৌ ইন্টারভিউ শেষ করা যায় কিনা, তা নিয়েই কিছু প্রশ্ন উঠেছিল।