ভাড়া বাড়াল ইন্ডিগো, টিকিটের সঙ্গে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হবে! ঘোষণার পরই সংস্থার শেয়ারে ধস


নিজস্ব প্রতিনিধি : জ্বালানির দামে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির জেরে অবশেষে বিমান ভ্রমণের খরচও বেড়ে গেল। বুধবার অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল–এর দাম হঠাৎই বৃদ্ধি পাওয়ার পর ইন্ডিগো আজ থেকে নতুন সারচার্জ চালু করেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক- দুই ক্ষেত্রেই কিলোমিটার বা রুটভিত্তিক বাড়তি চার্জ যোগ হবে টিকিটের সঙ্গে। এরই মধ্যে বাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইন্ডিগোর পেরেন্ট কোম্পানি ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশনের শেয়ার, যা একদিনে প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে গিয়েছে।

দেশীয় রুটে নতুন ফুয়েল চার্জ

দেশীয় ফ্লাইটে দূরত্ব অনুযায়ী বাড়তি সারচার্জ দিতে হবে-

০–৫০০ কিমি: ২৭৫ টাকা
৫০১–১০০০ কিমি: ৪০০ টাকা
১০০১–১৫০০ কিমি: ৬০০ টাকা
১৫০১–২০০০ কিমি: ৮০০ টাকা
২০০০ কিমির বেশি: ৯৫০ টাকা
টিকিটের বেস ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত হবে এই চার্জ।

আন্তর্জাতিক রুটে খরচ আরও বাড়ল

গত ৩০ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ফলে বিদেশ ভ্রমণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইন্ডিগো জানিয়েছে, প্রতিটি সেক্টরে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাড়তি চার্জ যোগ হবে,

ব্রিটেন ও ইউরোপ: বাড়তি ১০ হাজার টাকা
উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্য: ৩ হাজার–৫ হাজার টাকা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চিন: ৩ হাজার–৫ হাজার টাকা
আফ্রিকা: বাড়তি ৫ হাজার টাকা
এপ্রিলের ২ তারিখ থেকেই এই সারচার্জ কার্যকর।

কেন বাড়ছে ভাড়া?

বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগাতার বাড়ছে। তার প্রভাব পড়ছে জেট ফুয়েলে। জ্বালানি সাধারণত ইন্ডিগোর মোট খরচের প্রায় ৪০ শতাংশ। এতটা বেড়ে যাওয়ায় সংস্থার পক্ষে পুরোনো ভাড়া ধরে রাখা ছিল অসম্ভব।

কেন্দ্র সরকার যদি ডোমেস্টিক ATF–এর দামে আংশিক নিয়ন্ত্রণ না আনত, বিমান ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে যেত, জানিয়েছে ইন্ডিগো।

শেয়ার বাজারে বড় পতন

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিং সেশনেই ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশনের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে যায়। গত এক মাসে শেয়ার দর ইতিমধ্যেই ১০ শতাংশর বেশি কমেছে। নিফটি৫০ ও সেনসেক্সেও এদিন সামগ্রিক পতন দেখা গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে,

জেট ফুয়েলের দামবৃদ্ধি,
যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা,
ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমা
এই তিনের প্রভাবে এভিয়েশন সেক্টরের বৃদ্ধিতে সাময়িক ধাক্কা আসতে পারে।

এমকে গ্লোবাল ইন্ডিগোর টার্গেট প্রাইস ৬ হাজার ৩০০ থেকে কমিয়ে ৫ হাজার ৫০০, আর এইচএসবিসি ৫ হাজার ৮৬০ থেকে কমিয়ে ৫ হাজার ২১০ করেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post