Uber Shuttle–এর পরিষেবা বন্ধ এপ্রিলের দ্বিতীয় দিন থেকেই, দুশ্চিন্তা


২০২৪–এর মার্চ থেকে কলকাতায় পরিষেবা শুরু হয়েছিল উবর শাটল–এর। ঠিক দু’বছরের মাথায় ২০২৬–এর ২ এপ্রিল থেকে শহরে এই পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সংস্থা। ৬০টি বাস দিয়ে যে পরিষেবা শুরু হয়েছিল, এক বছরের মধ্যেই প্রবল জনপ্রিয়তায় বাসের সংখ্যা পৌঁছেছিল ১৬০টিতে। সংস্থার হিসেব, কলকাতায় মাসে উবর শাটল–এর অ্যাপ–নির্ভর পরিষেবায় গড়ে প্রায় ১৭ লক্ষ বুকিং হতো। কিন্তু আগামিকাল থেকে সেই পরিষেবা আর পাওয়া যাবে না।

সংস্থার পরিষেবা বন্ধের ঘোষণায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপে পর পর ভেসে উঠেছে উদ্বিগ্ন নাগরিকদের নানা মন্তব্য। বেশির ভাগই বিভিন্ন তথ্য–প্রযুক্তি সংস্থার কর্মীর। তাঁদের অনেককেই সকালে যে সময়ে অফিসে ঢুকতে হয়, সেই সময়ে কলকাতার রাস্তায় বাসের সংখ্যা কমই থাকে। অ্যাপ ক্যাব থাকলেও তার ভাড়া বেশ চড়া থাকে ওই সময়ে। সেই কারণেই অনেকে গত দু’বছর ধরে উবর শাটল–এর নিয়মিত যাত্রী হয়ে উঠেছিলেন। বাতানুকূল এক–একটি বাসে আসন–সংখ্যা ১৯ থেকে ৫০। দাঁড়িয়ে যাওয়ার কোনও সংস্থান নেই। বাসে যত আসন, যাত্রীও ঠিক তত। ফলে স্বাচ্ছন্দ্য ছিল প্রশ্নাতীত। শাটল পরিষেবা বুক করার ব্যবস্থা ছিল উবর অ্যাপ থেকেই। তবে ক্যাবের মতো এই বাস বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াত না। শহরের বিভিন্ন রুট ধরে চলত। যাঁরা বাস ধরতে আগ্রহী হতেন, তাঁরা আগে থেকে বুক করতেন। নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়াতেন, সেখানে বাস এলে উঠে নিজের গন্তব্যে চলে যেতেন। গত দু’বছর ধরে একই ছন্দে পরিষেবা দিয়ে যাত্রীদের রীতিমতো অভ্যস্ত করে তুলেছিল উবর শাটল।

সেই কারণেই পরিষেবা বন্ধের কথা জানাজানি হতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে বহু যাত্রীর। তাঁদের একটাই প্রশ্ন — ‘এ বার অফিস যাব কী ভাবে?’ এই দলে রয়েছেন নিউ টাউনের আইটি–কর্মী পুণ্যব্রত বসু এবং সল্টলেক সেক্টর–ফাইভ–এর রাখি সেনগুপ্ত। ওঁদের বক্তব্য, ‘শিফটের কারণে অনেক সময়েই সকাল ৭টায় অফিস ঢুকতে হতো। এ দিকে উবর শাটল পরিষেবা চালু হতো ভোর ৬টা থেকে। কাজেই কোনও সমস্যাই হতো না।’ কিন্তু সেই পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় বিরাট সমস্যায় বিভিন্ন সেক্টরের বহু কর্মীই।

সমস্যায় শাটল পরিষেবায় বাস ভাড়া দেওয়া ব্যবসায়ীরাও। অনলাইন অ্যাপ ক্যাব অপারেটর্স গিল্ড–এর সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই পরিষেবা চালু হওয়ার সময়ে গাড়ির চালকদের অনেক টাকা বোনাস হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই এই ব্যবসায় যুক্ত হতে সংস্থার নির্দেশ মতো হাই–এন্ড বাস নামিয়েছিলেন। শাটল পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় চালকরা এবং বাসের মালিকরা — উভয়েই সমস্যায় পড়লেন।’ কেন এই পরিষেবা বন্ধ করা হলো, সে বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না বলেই এমন সিদ্ধান্ত। ফান্ড সংক্রান্ত সমস্যাও এমন সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post