আসলে গত কয়েকবছরে রাজ্যের কর্মসংস্কৃতিতে নানা বদল দেখা গিয়েছে। বাম আমলে সরকারি দপ্তরের কাজ সম্পর্কে জনতার বাঁধা লব্জ ছিল – ‘আঠেরো মাসে বছর’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পরে ক্ষমতায় এসে ফাইল থেকে লাল ফিতের ফাঁস আলগা হয়ে যায়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ছিল, কোনও ঢিলেমি নয়, যাবতীয় সরকারি কাজ সেরে ফেলতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বারবার নানা প্রশাসনিক বৈঠক করে দপ্তরের আধিকারিকদের বহুবার কার্যত ধমক দিয়েছেন। জনপরিষেবার কোনও কাজ যাতে ফেলে রাখা না হয়, তার জন্য বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। যদিও তাঁর আমলে অনেক দিন ছুটি পেতেন সরকারি কর্মীরা। তা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি।
এবার সেই কর্মসংস্কৃতিও পালটে দিচ্ছে নবগঠিত বিজেপি সরকার। ঘড়ি ধরে সকাল ১০টা ১৫-এ অফিস ঢুকতে হবে কর্মীদের এবং মাঝে বিরতির সময় বেরিয়ে যাওয়া চলবে না। বিকেল ৫টা ১৫ পর্যন্ত নিজের দপ্তরে থাকতেই হবে প্রত্যেক কর্মীকে। এই মুহূর্তে কাজের চাপ রয়েছে একাধিক দপ্তরে। সেই কাজ যাতে মসৃণভাবে শেষ হয়ে যায়, তার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। অর্থদপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছেন রাজ্য সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি। এই বিজ্ঞপ্তি দেখে অনেকেই বলছেন, দশটা-পাঁচটা ডিউটি কড়াকড়ি হচ্ছে। বাম আমলে ১২টায় অফিস এসে ৩টেয় বেরিয়ে যাওয়ার যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল সরকারি কর্মীদের, তা বদলে গিয়েছিল তৃণমূল জমানায়। আর এবার নতুন বিজেপি সরকারের আমলে কর্মসংস্কৃতি একেবারে শিকলে বাঁধা হচ্ছে।