অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন পদ্ধতি ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক, সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ সাধারণ মানুষের!


অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন পদ্ধতি ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক, সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ সাধারণ মানুষের
রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবশেষে প্রকাশ করলেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করার ফর্ম। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ফর্ম প্রকাশের পর থেকেই সমাজমাধ্যম জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে তার মধ্যে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই প্রকল্পের আবেদন পদ্ধতি নিয়ে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ,  ৩০০০ টাকার ভাতা পাওয়ার জন্য কেন এত বড় এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট, কমেন্ট এবং ভিডিও বার্তায় বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন— কেন গোটা পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর থেকে শুরু করে এত বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হবে। অনেকেই মনে করছেন, একটি সামাজিক প্রকল্পের জন্য এই ধরনের দীর্ঘ ও জটিল ফর্ম সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই একাংশের মানুষ দাবি করতে শুরু করেছেন, এই ১২ পাতার ফর্ম প্রকাশের মাধ্যমে কার্যত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। অনেকের বক্তব্য, আবেদন প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে এত জটিল করে তোলা হয়েছে যাতে বহু মানুষ মাঝপথেই আবেদন করা থেকে সরে দাঁড়ান। আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই আবেদনপত্র কি এক বা দুই পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যেত না? আধার কার্ড ও কয়েকটি প্রাথমিক তথ্যের মাধ্যমেই কি প্রকৃত আবেদনকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না? তাহলে এত বড় ১২ পাতার ফর্ম তৈরির আদৌ কতটা প্রয়োজন ছিল, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
এর পাশাপাশি তুলনা টানা হচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সঙ্গে। সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভাতার পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও আবেদন পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সহজ ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। মাত্র এক পাতার ফর্মের মাধ্যমেই আবেদন করা যেত এবং রাজ্যের অধিকাংশ মহিলাই সেই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছিলেন। সেই তুলনায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটাই জটিল বলে মত বহু মানুষের। অনেকেই সরাসরি মন্তব্য করছেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই ভালো ছিল।”
ভোটের আগে এবং সরকার গঠনের পর নতুন সরকারের তরফে বারবার বলা হয়েছিল, যেসব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছায়, সেই সমস্ত অ্যাকাউন্টেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অর্থ সরাসরি পাঠানো হবে। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শুধুমাত্র DBT লিংক করলেই মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে দেখা গিয়েছিল দীর্ঘ লাইন। বহু মানুষ DBT লিংক করানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন।
কিন্তু এতকিছুর পর গতকাল যখন মুখ্যমন্ত্রী নতুন করে ১২ পাতার আবেদনপত্র প্রকাশ করে জানালেন যে অনলাইন অথবা অফলাইনের মাধ্যমে পুনরায় আবেদন করতে হবে, তখন থেকেই সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে শুরু করে। অনেকেরই প্রশ্ন, যদি শুরু থেকেই নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন থাকত, তাহলে সরকার প্রথম থেকেই সেই কথা স্পষ্টভাবে জানাল না কেন? কেন সাধারণ মানুষকে ভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হল— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সমাজমাধ্যমের নানা আলোচনায়।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এছাড়াও যোগ্য এবং প্রকৃত আবেনকারীদের চিহ্নিত করতে এবং প্রকল্পের সুবিধে পৌঁছে দিতেই রাজ্য সরকার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য বিশদে সংগ্রহ করছে৷ এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই সব পরিবারকে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধে পৌঁছে দেওয়া হবে৷
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারন মানুষের কিছু প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য নিচে দেওয়া হল। 

Post a Comment

Previous Post Next Post