পেঁয়াজের দাম সাধারণত অগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাড়ে। কারণ এই সময়ে রবি মরশুমের পেঁয়াজের মজুত কমতে থাকে। অন্য দিকে খরিফ মরশুমের নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে কিছুটা সময় লাগে। এ বার বর্ষার অনিশ্চয়তার কারণে খরিফ পেঁয়াজের বপন দেরি হওয়ায় সেই চাপ আরও বেড়েছে।
কেন এতটা বাড়ল পেঁয়াজের দাম?
মূলত তিনটি কারণকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে—
* খরিফ পেঁয়াজের বপনে দেরি: বর্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে খরিফ পেঁয়াজের চাষ পিছিয়েছে। ফলে নতুন ফসল বাজারে আসতে দেরি হচ্ছে।
* রবি পেঁয়াজের জোগান কমেছে: রবি মরশুমের পেঁয়াজের মজুত ধীরে ধীরে কমে আসায় বাজারে সরবরাহও কমেছে।
* সরকারি সংগ্রহ কমেছে: এ বছর সরকারের পেঁয়াজ সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক হয়েছে। ফলে বাজারে সরকারি মজুত থেকে জোগানের সুযোগও কমেছে।
এই পরিস্থিতিতে মজুতদারদের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজারে জোগানের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বুঝে কেউ কেউ পেঁয়াজ ধরে রাখছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দামের উপর আরও চাপ পড়ছে।
নাসিকে এক মাসে ৭৬% দামবৃদ্ধি
নাসিকের বাজারে এক মাস আগে এক কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম ছিল প্রায় ২,০৫০ টাকা। ১৯ অগস্ট তা বেড়ে হয় ৩,৭৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল। ২০ অগস্ট দাম ছিল ৩,৫৫১ টাকা এবং ২১ অগস্ট তা ফের ৩,৬০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে নাসিকের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।
খুচরো বাজারেও দাম বাড়ছে
ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২২ অগস্ট দেশের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের গড় দাম ছিল ৩,৩৯৭ টাকা প্রতি কুইন্টাল। খুচরো বাজারে গড় দাম ছিল ৪১.৬৪ টাকা প্রতি কেজি।
এক মাস আগে দেশের গড় খুচরো দাম ছিল ৩৪.৯৫ টাকা প্রতি কেজি। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে খুচরো দাম প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে।