‘নাক গলাবেন না’, বিদেশি অনুদান বিলে আমেরিকার আপত্তি ফুৎকারে ওড়াল ভারত


 অনুদান নিয়ন্ত্রণে ভারতের প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল নিয়ে আমেরিকার এক আইনপ্রণেতার আপত্তি ঘিরে কূটনৈতিক চাপানউতোর। আমেরিকার সমালোচনাকে কার্যত খারিজ করে ভারত জানিয়েছে, বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত আইন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিষয়ে কোনও বিদেশি মন্তব্যকে ভারত স্বাগত জানায় না বলেও স্পষ্ট করেছে বিদেশ মন্ত্রক।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026 বা এফসিআরএ সংশোধনী বিল। চলতি বছরের ২৫ মার্চ লোকসভায় বিলটি পেশ করা হয়। বিদেশ থেকে আসা অনুদান ও সেই অর্থে তৈরি সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা আরও নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত করার কাঠামো তৈরি করাই বিলটির অন্যতম লক্ষ্য।
কী রয়েছে প্রস্তাবিত বিলে?
বর্তমান আইনের অধীনে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী কোনও সংস্থার এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন বাতিল, আত্মসমর্পণ বা মেয়াদ শেষ হলে সেই সংস্থার বিদেশি অনুদান এবং ওই অর্থে তৈরি সম্পত্তি নিয়ে কী ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আরও স্পষ্ট করতে চায় নতুন বিল।
প্রস্তাবিত আইনে একটি Designated Authority গঠনের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনও সংস্থার এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশি অনুদানে তৈরি সম্পত্তি হেফাজতে নেওয়া, পরিচালনা বা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই কর্তৃপক্ষ ভূমিকা নিতে পারবে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, এর উদ্দেশ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহার আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, বিদেশি অর্থ যেন দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
কেন আপত্তি আমেরিকার?
প্রস্তাবিত আইনের কয়েকটি বিষয় নিয়ে আমেরিকার এক আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এফসিআরএ-র নতুন ব্যবস্থার ফলে বিদেশি অনুদান পাওয়া ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পত্তি নিয়েও সরকারের ক্ষমতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে চার্চ ও খ্রিস্টান সংগঠনগুলির ক্ষেত্রে এই বিধানের প্রভাব নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
ভারত অবশ্য এই অভিযোগ মানেনি। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সংগঠনকে নিশানা করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়। বিদেশি অনুদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্যই নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে স্পষ্ট বার্তা
আমেরিকার সমালোচনার জবাবে ভারতের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—ভারতের সংসদে কোন আইন তৈরি হবে, তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। বিদেশি কোনও পক্ষের মন্তব্যের ভিত্তিতে সেই আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, বিলটি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরেও বিতর্ক রয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, নতুন বিধান বিদেশি অনুদানের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে পারে এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনের কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কেন্দ্রের দাবি, বৈধ ও জনকল্যাণমূলক কাজকে বাধা দেওয়া নয়, বরং বিদেশি অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
ফলে এফসিআরএ সংশোধনী বিলকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই। বিদেশি অনুদান, জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post