‘ও কাঁদতে কাঁদতে বলল, বাঁচাও আমাকে’! ব্রিটেনে রুশ জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেনের গ্রেফতারিতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্ত্রী


ব্রিটেনে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজ আটক এবং তার ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পন্তকে গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্বামীকে গ্রেফতারের পর তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় অজয় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন স্ত্রী ঋতু পন্ত। তাঁর দাবি, ফোনে স্বামী শুধু বলেছিলেন, “আমি জেলে আছি, আমাকে এখান থেকে বার করে নাও।”
৩৮ বছরের অজয় পন্ত ‘স্মির্টোস’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন। গত ১৪ জুন ইংলিশ চ্যানেলে জাহাজটিকে আটক করে ব্রিটিশ বাহিনী। হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডো নামিয়ে জাহাজে অভিযান চালানো হয়। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাহাজটি রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। জাহাজটিতে প্রায় ৯৮ হাজার টন তেল ছিল বলে জানা গিয়েছে।
এর পর অজয়কে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ হেফাজতেই রয়েছেন এবং তাঁর বিচার ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা।
স্বামীর গ্রেফতারির ঘটনায় অজয়ের স্ত্রী ঋতুর দাবি, তাঁকে কার্যত ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “ভুল সময়ে, ভুল জায়গায় ছিলেন অজয়।” ঋতুর দাবি, জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসাবে অজয় মূলত নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং জাহাজের মালিকপক্ষের নির্দেশই অনুসরণ করছিলেন। অজয়ের আইনজীবীও আদালতে একই ধরনের যুক্তি দিয়েছেন বলে খবর।
অজয়ের পরিবারের তরফে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের আবেদনও করা হয়েছে। তাঁর মা দীপা পন্ত ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সাহায্য চেয়েছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তারা নজরে রেখেছে এবং অজয়কে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
স্বামীর গ্রেফতারির আগে সমুদ্রযাত্রা নিয়ে অজয়ের সঙ্গে কথাও হয়েছিল ঋতুর। সেই সময় সমুদ্রপথের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অজয়। এখন ব্রিটেনে তাঁর বন্দিদশা এবং সামনে বিচার—সব মিলিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে উত্তরাখণ্ডের এই পরিবারের।

Post a Comment

Previous Post Next Post