স্কুলপাঠ্য থেকে মুছল প্যালেস্টাইনের নাম! মারের ভয়ে ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দিতে চলেছে আরও এক আরব রাষ্ট্র?


প্যালেস্টাইন-ইজ়রায়েল সংঘাতের আবহে সৌদি আরবের স্কুলপাঠ্যে সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তন ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে ‘প্যালেস্টাইন’ নামটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইজ়রায়েল ও জেরুজ়ালেম সংক্রান্ত কিছু পুরনো শব্দবন্ধও বদলানো হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে কি আরও এক ধাপ এগোচ্ছে রিয়াধ?
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩৬টি সৌদি পাঠ্যবই পর্যালোচনা করে ইজ়রায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা IMPACT-se এই পরিবর্তনগুলির কথা জানিয়েছে। তাদের পর্যালোচনা অনুযায়ী, কয়েকটি মানচিত্রে আগে যে ভূখণ্ডকে ‘প্যালেস্টাইন’ নামে চিহ্নিত করা হত, নতুন সংস্করণে সেই নাম আর রাখা হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সেই মানচিত্রগুলিতে ইজ়রায়েলের নামও বসানো হয়নি। অর্থাৎ, শুধু ‘প্যালেস্টাইন’ শব্দটি বাদ যাওয়াকে ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
শুধু মানচিত্র নয়, পাঠ্যবইয়ের ভাষাতেও পরিবর্তন এসেছে। ‘জ়ায়নবাদী শত্রু’-র পরিবর্তে কোথাও ‘ইজ়রায়েলি দখলদারিত্ব’ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আবার একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার বই থেকে ‘মুসলিমরা কখনও জেরুজ়ালেম ছাড়বে না’—এই বক্তব্যটিও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সৌদি আরবের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে প্যালেস্টাইন বা প্যালেস্টাইনি প্রশ্ন সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়। সাম্প্রতিক পর্যালোচনাতেও প্যালেস্টাইনি ইস্যুর প্রতি সৌদি সমর্থনের উল্লেখ রয়েছে। কিছু পাঠ্যবইয়ে ইজ়রায়েলকে এখনও ‘দখলদার’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
তাহলে কি ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দিতে চলেছে সৌদি আরব? আপাতত এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। বরং পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তনকে সৌদি আরবের বৃহত্তর শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও ইজ়রায়েল ও প্যালেস্টাইন নিয়ে ভাষা নরম হওয়া এবং কিছু মানচিত্রে ‘প্যালেস্টাইন’ নাম বাদ যাওয়ায় দুই দেশের সম্ভাব্য সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে জল্পনা জোরদার হয়েছে।
ফলে ‘প্যালেস্টাইনকে স্কুলপাঠ্য থেকে পুরোপুরি মুছে দেওয়া হয়েছে’ বা ‘সৌদি আরব ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দিতে চলেছে’—দুটিকেই এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সৌদি পাঠ্যবইয়ে ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন সংক্রান্ত ভাষা ও মানচিত্রে যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিঃসন্দেহে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নজর কাড়ার মতো ঘটনা।

Post a Comment

Previous Post Next Post