অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করার পরও টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন একদল মহিলা। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা জানান তাঁরা। মহিলাদের দাবি, প্রায় দু’মাস আগে তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ফর্ম পূরণ করেছিলেন। অথচ এখনও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা জমা পড়েনি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অগস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। কিন্তু এর পরেও বহু আবেদনকারী টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন। এই নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভও হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরের সামনেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহিলারা। সেই সময় সেখানে পৌঁছন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁকে ঘিরে নিজেদের সমস্যার কথা জানান বিক্ষোভকারীরা।
অভিযোগ শোনার পর মন্ত্রী মহিলাদের তাঁদের ‘এনরোলমেন্ট নম্বর’ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে জমা দিতে বলেন। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। অগ্নিমিত্রার আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানা গিয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগেও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ১২ পাতার ফর্মে পরিবারের একাধিক সদস্যের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। ফর্ম পূরণ করলেই যে টাকা পাওয়া যাবে, এমন নয়—যোগ্যতা যাচাইয়ের পরই সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল।
পাশাপাশি, আবেদনপত্রের কোনও ঘর প্রযোজ্য না হলে সেখানে ‘নট অ্যাপ্লিকেবল’ লিখে দেওয়া যাবে এবং ফর্মের প্রতিটি ঘর পূরণ না করলেও শুধুমাত্র সেই কারণে আবেদন বাতিল হবে না বলে পরে স্পষ্ট করেছিলেন মন্ত্রী।
ফলে ফর্ম পূরণ করেও টাকা না পাওয়া মহিলাদের অভিযোগকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে অন্নপূর্ণা যোজনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। এখন প্রশাসনিক যাচাইয়ের পর অভিযোগকারী মহিলারা কবে প্রকল্পের সুবিধা পান, সেদিকেই নজর।