জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের ‘অন ডিউটি’ দেখাতে হবে, রায় দিল হাই কোর্ট, পড়াশোনায় ব্যাঘাত নিয়ে কী অভিমত?


কলকাতা হাই কোর্টে জনগণনার কাজে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে চলা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ সামনে এসেছে। জনগণনার দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আদালত।
জনগণনা ২০২৭-এর কাজে বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন একাংশ শিক্ষক। তাঁদের বক্তব্য, স্কুলের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর জনগণনার কাজ করতে গেলে দীর্ঘ যাতায়াতের পর তাঁদের পক্ষে সেই দায়িত্ব পালন করা কঠিন। অনেক শিক্ষককে আবার রবিবারের মতো সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করতে হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়।
শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্কুল করার পর দূরের এলাকায় গিয়ে কী ভাবে শিক্ষকরা জনগণনার কাজ করবেন। অনেক শিক্ষক প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াত করেন বলেও আদালতে জানানো হয়। ফলে স্কুলের কাজ এবং জনগণনার দায়িত্ব—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।
এদিকে, কলকাতা পুরসভার তরফে Census Act, 1948-এর সংশ্লিষ্ট ধারার উল্লেখ করে জনগণনার দায়িত্বকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীদের নিয়মিত সরকারি কাজের অংশ হিসেবে ‘অন ডিউটি’ মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দায়িত্ব পালনের কারণে চাকরির সুবিধা, পদোন্নতি বা কেরিয়ার অগ্রগতিতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জনগণনা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, এই কাজ মূলত সম্মানীভিত্তিক এবং স্কুলের নির্ধারিত সময়ের বাইরে করার কথা। প্রথম পর্যায়ের কাজে প্রায় ১.৭ লক্ষ গণনাকারী এবং প্রায় ৩০ হাজার সুপারভাইজার যুক্ত রয়েছেন, যাঁদের বড় অংশই শিক্ষক।
মূল বিতর্ক তাই শুধু শিক্ষকদের ‘অন ডিউটি’ মর্যাদা নিয়েই নয়, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তার জন্য যেন স্কুলের নিয়মিত পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শিক্ষকরা যাতে তাঁদের মূল দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে পারেন, সেই ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেই নজর আদালতের।

Post a Comment

Previous Post Next Post