দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা ও যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে নতুন উদ্যোগ নিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত করার জন্য ‘বিষয়-বিশেষজ্ঞ’ নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সরাসরি নিয়োগ করা হবে না। তাঁদের যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাই করা হবে চার স্তরের একটি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন বিষয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক, অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি করা হবে। এই প্যানেলের সদস্যরাই ভবিষ্যতে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির পাশাপাশি প্রশ্নের মান যাচাই ও সংশোধনের কাজে যুক্ত থাকবেন।
বিশেষজ্ঞ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং প্রশ্নপত্র তৈরির সক্ষমতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। চার ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থীদের চিহ্নিত করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
এনটিএ-র এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, প্রশ্নপত্রে ভুলের সম্ভাবনা কমানো এবং পরীক্ষার মান আরও উন্নত করা। একই সঙ্গে প্রশ্নের কাঠামো, কঠিনতার মাত্রা এবং পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে বিতর্ক এবং প্রশ্নের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনটিএ-র এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র তৈরির আগে এবং পরে একাধিক স্তরে তা যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে পরীক্ষার্থীদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য প্রশ্নপত্র তৈরি করা যাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
চার স্তরের যাচাই পদ্ধতি সম্পূর্ণ হওয়ার পর নির্বাচিত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে সেই তালিকা থেকে বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রশ্নপ্রণয়ন ব্যবস্থায় আরও পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহি আনার চেষ্টা করছে এনটিএ।