দ্বাদশ ও জয়েন্টের সিলেবাসে পার্থক্য কমানোর প্রস্তাব



দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারের উপরে পড়ুয়াদের অন্ধ নির্ভরতা কমাতে এবং 'ডামি স্কুল' (যেখানে ক্লাস না–করেও শুধু পরীক্ষায় বসা যায়) প্রথার বাড়বাড়ন্ত রুখতে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত বছর জুনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল সম্প্রতি তাদের খসড়া রিপোর্ট জমা দিয়েছে। পড়ুয়াদের কোচিং–প্রবণতা কমানোর পথ খুঁজতে তৈরি এই সাত সদস্যের প্যানেলের মূল লক্ষ্যই হলো দেশের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা, যাতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যেমন জেইই, নিটের প্রস্তুতির জন্য কোনও পড়ুয়াকে কোচিংয়ের দ্বারস্থ হতে না হয়।

রিপোর্টে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, স্কুল ও প্রবেশিকা পরীক্ষার সিলেবাসের মধ্যে থাকা বিশাল ফারাক মেটানো। বর্তমানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে যা পড়ানো হয় এবং জয়েন্ট বা নিট-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যে প্রশ্ন আসে, তার মধ্যে বিস্তর অমিল রয়েছে। পরীক্ষায় এমন অনেক প্রশ্ন থাকে যার সমাধানের জন্য স্কুলের শিক্ষার চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এর ফলেই পড়ুয়ারা স্পেশালাইজ়ড কোচিং নিতে বাধ্য হয় বলে মনে করছে কমিটি। কমিটির সুস্পষ্ট সুপারিশ, প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু এবং কতটা কঠিন হবে, তার মাত্রা অবশ্যই স্কুলের সিলেবাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ, স্কুল সিলেবাসের বাইরে বেরিয়ে অ্যাডভান্সড প্রশ্ন করার রীতিতে ছেদ টানতে বলা হয়েছে।

প্যানেলের প্রস্তাব, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে শুধু প্রবেশিকা পরীক্ষার র‍্যাঙ্কই ভর্তির শেষ কথা। ফলে পড়ুয়ারা স্কুলের ক্লাসরুম ও বোর্ড পরীক্ষাকে কার্যত অবহেলা করে দিনরাত কোচিংয়ে পড়ে থাকে। প্যানেলের মতে, বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকে প্রবেশিকা পরীক্ষার স্কোরের পাশাপাশি নির্দিষ্ট মাত্রায় গুরুত্ব দিলে স্কুলে উপস্থিতির হার বাড়বেএবং স্কুলের শিক্ষার গুরুত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।

তৃতীয়ত, শুধুমাত্র ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইঁদুর দৌড় থেকে পড়ুয়াদের বের করে আনতে প্যানেল নির্দেশ দিয়েছে যে, অষ্টম শ্রেণি থেকেই পড়ুয়াদের মেধা, আগ্রহ এবং দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া নিজেদের আসল দক্ষতা না বুঝেই এই গুটিকয়েক পরীক্ষার পিছনে ছুটে সময় ও অর্থ নষ্ট করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post